ত্রিশাল (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের ত্রিশালে তথাকথিত শ্রমিক ইউনিয়নের নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুপাশে প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে।
চাঁদাবাজির ভয়াবহ চিত্র:
বিক্ষোভকারী চালকদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দীর্ঘদিন ধরে কোনো রশিদ ছাড়াই অটোরিকশা প্রতি চাঁদা তোলা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি এই চাঁদার পরিমাণ ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৭০ টাকা করা হয়েছে। এমনকি চালকদের কাছ থেকে এককালীন ১ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা না দিলে মারধর ও গাড়ি আটকে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কথিত শ্রমিক নেতা দুকুল মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার সূত্রপাত:
আজ সকালে মো. ফয়সাল নামের এক চালক মেডিকেল গেট এলাকায় যাত্রী নিয়ে গেলে তার কাছে ৭০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। প্রতিবাদ করায় তাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হলে তিনি ত্রিশালে এসে অন্য চালকদের ঐক্যবদ্ধ করেন। সকাল ১০টার দিকে চালকরা মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ত্রিশাল থানা পুলিশ চাঁদা বন্ধের জোরালো আশ্বাস দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
নেপথ্যে কে এই দুকুল মিয়া?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুকুল মিয়া একসময় আওয়ামী লীগ নেতা ও পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আমিনুল হক শামীমের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে নবনির্বাচিত এমপি ওয়াহাব আকন্দের লোক পরিচয় দিয়ে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এমপির কড়া হুঁশিয়ারি:
তবে এই চাঁদাবাজির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ময়মনসিংহ সদর আসনের নবনির্বাচিত এমপি ওয়াহাব আকন্দ। তিনি বলেন, “আমার বা আমার দলের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ চাঁদাবাজি করে, তবে তাকে ধরে পুলিশে দিন। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।”
ত্রিশাল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।









