Home অপরাধ শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ‘গ্যাং মাদার’ কন্যা সিন্থিয়া বিথি গ্রে’প্তা’র

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ‘গ্যাং মাদার’ কন্যা সিন্থিয়া বিথি গ্রে’প্তা’র

আন্ডারওয়ার্ল্ডে ক্ষমতা হস্তান্তর, ভারতীয় যোগসূত্র ও জুলাই বিপ্লবীদের উপর হামলার যোগসাজশ খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা

246
0
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের 'গ্যাং মাদার' কন্যা সিন্থিয়া বিথি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অপরাধ জগতে এক নতুন এবং গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়ে শীর্ষস্থানীয় ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে সিন্থিয়া বিথিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

গতকাল সোমবার, র‍্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা সূত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের কন্যা সিন্থিয়া বিথিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে।

দায়িত্বশীল উচ্চ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার মতে, এই গ্রেপ্তার কেবল একটি দাগী সন্ত্রাসী পরিবারের সদস্যকে আইনের আওতায় আনাই নয়, বরং দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ক্ষমতা হস্তান্তর, আন্তর্দেশীয় সন্ত্রাসী যোগাযোগ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় অন্ধকার জগতের প্রভাবের এক গুরুতর ইঙ্গিত বহন করছে।

‘গ্যাং মাদার’ হিসেবে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সিন্থিয়া বিথি শুধু সুব্রত বাইনের উত্তরাধিকারী হিসেবে নন, বরং তিনি তার বাবার দীর্ঘ কারাবাসের সময় সুকৌশলে আন্ডারওয়ার্ল্ডের রিমোট কন্ট্রোল নিজের হাতে তুলে নেন এবং ‘গ্যাং মাদার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

অভিযোগ উঠেছে, বাবার অবর্তমানে সিন্থিয়া বিথি সেই নেটওয়ার্ক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতেন। আন্ডারওয়ার্ল্ডের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অবৈধ অর্থ লেনদেনসহ ছোট-বড় সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, বিথির নেতৃত্ব ছিল তার বাবার চেয়ে কম সুসংগঠিত এবং প্রযুক্তি নির্ভর নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে আরো বেশি কৌশলী ও আগ্রাসী। তিনি বাবার বিশাল অস্ত্র ভান্ডার এবং প্রশিক্ষিত ঘাতক দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে দূর থেকেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সক্রিয় রেখেছিলেন।

আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সন্ত্রাসী যোগসূত্র

বিথির কর্মকাণ্ড শুধু দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিথির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যোগসাজোসের অভিযোগ তদন্তকারীদের কাছে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, তিনি ভারতের কিছু সন্ত্রাসবাদী গ্রুপ ও অপরাধ চক্রের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ স্থাপন করছিলেন বলে তথ্য মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই আন্তর্দেশীয় সংযোগের মাধ্যমে তার বাবার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছিল।

জুলাই বিপ্লবীদের উপর হামলার যোগসূত্র তদন্তে

বিথির গ্রেপ্তারের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দিকটির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তা হলো—সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লবীদের উপর হামলা ও হুমকি এবং তার পরবর্তী সহিংস ঘটনাগুলোর সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা।

  • ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম আইকন শরীফ ওসমান হাদীর উপর ছাত্রলীগ ক্যাডার ফয়সাল করিম মাসুদ নামক আততায়ীর গুলির প্রেক্ষাপটে আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং ভারতীয় সন্ত্রাসবাদী গ্রুপগুলোর সংযোগের বিষয়ে বিথিকে নিবিড়ভাবে জেরা করা হচ্ছে।

ডিবিতে হস্তান্তর ও দীর্ঘ রিমান্ডের প্রস্তুতি

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাব তার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ভান্ডার, প্রশিক্ষিত কিলার দল এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গ্রুপগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে তিনি দীর্ঘ রিমান্ডের মুখোমুখি হতে পারেন বলে জানা গেছে।

সূত্রঃ আমার দেশ