খুলনা নগরীর ব্যস্ততম এলাকা ডাকবাংলো মোড়ে প্রকাশ্য দিবালোকে মাসুম বিল্লাহ (৪০) নামে এক শ্রমিক দল নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত ৯টার দিকে বাটার দোকানের সামনে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের আলোচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম মিনা কামালের ছোট ভাই।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯টার দিকে মাসুম বিল্লাহ ডাকবাংলো মোড়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ পাঁচজন দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনি গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে দুর্বৃত্তরা তাঁর ডান পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক
ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও পুলিশের সহায়তায় অশোক ঘোষ নামে এক সন্ত্রাসীকে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক অশোক ঘোষ পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘গ্রেনেড বাবু’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তাকে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিহতের পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে। তিনি রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, তাঁর বড় ভাই রূপসার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও নৈহাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল ২০২০ সালের ৩০ জুলাই র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
হত্যাকাণ্ডের পর ডাকবাংলো মোড়সহ পুরো শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে পুলিশ ধারণা করছে পূর্ব শত্রুতা বা রাজনৈতিক কোন্দল এর পেছনে থাকতে পারে।







