আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬

‘মরণ সাগর পারে তোমরা অমর, তোমাদের স্মরি’—কবির এই পঙক্তির মতোই আজ কৃতজ্ঞ চিত্তে ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে পুরো জাতি। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষায় রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত ও শফিউলদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে রচিত হয়েছিল বাঙালির জাতিসত্তার ভিত্তি।

শ্রদ্ধার ফুলে সিক্ত শহীদ মিনার:

মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হওয়ার এই দিনে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। রাত ১২টা ১ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং এরপর প্রধানমন্ত্রী তarek রহমান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। খালি পায়ে, শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনতা ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত করেন শহীদ বেদী।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট:

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। ১৯৪৮ সালে জিন্নাহর ‘উর্দুই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণার প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল ছাত্রসমাজ। সেই আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ পায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বের হওয়া মিছিলে পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও আত্মত্যাগ আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

সারাদেশে আজ যেমন কর্মসূচি:

  • পতাকা অর্ধনমিত: আজ সরকারি ছুটি। সকল সরকারি, বেসরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
  • আজিমপুর কবরস্থান: ভোরে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হয়।
  • প্রার্থনা ও আলোচনা: শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। বেতার ও টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

একুশ মানেই মাথানত না করা। ভাষা আন্দোলনের এই চেতনা যুগে যুগে বাঙালির জাতীয় জীবনে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।