গুলশানে ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

আজ বৃহস্পতিবার। দেশের ইতিহাসের প্রথম ‘জেনারেশন জেড’ অনুপ্রাণিত এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে বাংলাদেশ। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মযজ্ঞে দুপুর গড়াতেই রাজধানীসহ সারা দেশের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনী আমেজে ফিরল দেশ।

গুলশানে ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

সকাল ১০টার ঠিক পরে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভোট প্রদান শেষে তিনি এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “দেশের মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার যে অধিকার ফিরে পেয়েছে, আজ তার সার্থকতা দেখা যাচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”

একনজরে নির্বাচনের পরিসংখ্যান

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী এবারের নির্বাচনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

বিষয়পরিসংখ্যান
মোট ভোটার১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন
আসন সংখ্যা২৯৯টি (একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত)
অংশগ্রহণকারী দল৫১টি রাজনৈতিক দল
মোট প্রার্থী২,০২৮ জন (নারী ৮১ জন, স্বতন্ত্র ২৭৫ জন)
ভোটকেন্দ্র ও বুথ৪২,৬৫৯টি কেন্দ্র এবং ২,৪৭,৪৮২টি বুথ
নিরাপত্তা সদস্য৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন (সেনাবাহিনীসহ)

দলীয় প্রার্থী ও প্রতীকের লড়াই

  • বিএনপি: সর্বোচ্চ ২৯১ জন প্রার্থী নিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে লড়ছে।
  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: ২৫৮ জন প্রার্থী নিয়ে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে দ্বিতীয় অবস্থানে।
  • জামায়াতে ইসলামী: ২২৯ জন প্রার্থী নিয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
  • জাতীয় পার্টি: ১৯৮ জন প্রার্থী নিয়ে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মাঠে আছে।
  • জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): তরুণ প্রজন্মের ৩২ জন প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে লড়ছেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ: বিশ্ববাসীর নজর বাংলাদেশে

এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন মোট ৫৫,৪৫৪ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক। এর পাশাপাশি ৫৪০ জন বিদেশী পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক উপস্থিত রয়েছেন, যা গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ ও আইআরআই-এর মতো সংস্থার প্রতিনিধিরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।

ব্যালটে দুটি রায়: নির্বাচন ও গণভোট

ভোটারদের হাতে এবার দুটি করে ব্যালট পেপার। সাদা ব্যালটে পছন্দের সংসদ সদস্য নির্বাচন এবং গোলাপি রঙের বিশেষ ব্যালটে ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধানের সংস্কার প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর এটিই জনমতের সবচেয়ে বড় প্রতিফলন হতে যাচ্ছে।

নিরাপত্তার চাদরে দেশ

শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৯ লাখ ৭০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা সদস্য কাজ করছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছেন। ১,৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট এবং ৪৫,৮২০ জন গ্রাম পুলিশও সহযোগিতা করছেন। যেকোনো বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক ‘সামারি ট্রায়াল’ বা সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষমতা নিয়ে মাঠে আছেন।