ঢাকা | ৫ মার্চ ২০২৬ রাজধানীর কাফরুল থানাধীন ইব্রাহীমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বুধবার বিকেলে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম হলো। সেখানে উপস্থিত মানুষের চোখে ছিল আনন্দ আর অশ্রুর মিশ্র অনুভূতি। কারণ, কিছুদিন আগেও যার সংসার অনিশ্চয়তায় ডুবে ছিল, সেই অটোরিকশা চালক মো. রাসেলের হাতে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে তুলে দেওয়া হলো একটি নতুন অটোরিকশার চাবি।
এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে আব্বাস আলী ফাউন্ডেশন।
🔹 চুরি হওয়া রিকশা, থমকে যাওয়া সংসার
মো. রাসেলের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল তার অটোরিকশা। সেটিই ছিল তার পরিবারের “সংসারের চাকা”। কয়েকদিন আগে হঠাৎ সেটি চুরি হয়ে যায়। থানায় অভিযোগ করা হয়, চারদিকে খোঁজ চালানো হয়, কিন্তু কোনো হদিস মেলেনি।
রাসেল জানান—
“আমার একটা রিকশা ছিলো… আল্লাহর রহমতে ভালোই চলতেছিলো। হঠাৎ রিকশাটা চুরি হয়ে গেল। মনে হলো মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। চোখের সামনে অন্ধকার… সংসার চালামু কিভাবে বুঝতেছিলাম না। থানায় জানালাম, অনেক খুঁজলাম… কিন্তু পাইনি।”
অসহায় অবস্থায় ঘুরতে ঘুরতে তিনি আব্বাস আলী ফাউন্ডেশনের একজন সদস্যের সঙ্গে দেখা করেন এবং নিজের দুঃখের কথা খুলে বলেন।
🔹 সিদ্ধান্ত, তারপর বাস্তবায়ন
আব্বাস আলী ফাউন্ডেশনের সেবক রহমত এলাহী সোহাগ জানান—
“রাসেল ভাইয়ের সমস্যার কথা লোক মারফত জানতে পারি এবং আব্বাস ভাইকে জানাই। থানায়ও যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু অটো উদ্ধার করা যায়নি। পরে আব্বাস ভাই সিদ্ধান্ত নেন—তার সংসার যেন বন্ধ না হয়ে যায়, তাই একটি নতুন অটোরিকশা উপহার দেওয়া হয়। আব্বাস ভাই শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এসব কাজ করেন। কোনো বিনিময় নয়, তিনি শুধু মানুষের দোয়া চান।”
🔹 মায়ের চোখে অশ্রু, মুখে দোয়া
অটোরিকশার চাবি তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন রাসেলের মা। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন—
“আমাদের ছেলের একমাত্র ইনকাম ছিলো এই অটোরিকশা। সেটা চুরি হয়ে যাওয়ার পর আমরা শুধু আল্লাহকে ডাকতাম। আজকে আব্বাস আলী ভাই যে উপকার করেছেন, তা কখনো ভোলার নয়। আমাদের সংসার বাঁচিয়েছেন তিনি। আল্লাহ তাকে ও তার পরিবারকে সুখে রাখুন, সহি সালামত রাখুন।”
আরো পড়ুন- ১৬ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নতুন সমীকরণ, সামাজিক কাজ ঘিরে আলোচনায় আব্বাস আলী

🔹 আবেগঘন মুহূর্ত
চাবি হাতে পেয়ে রাসেলের চোখে জল। তিনি বলেন—
“আজ আমার চোখের পানি থামতেছে না। আব্বাস আলী ভাই আর তার ফাউন্ডেশন আমারে নতুন জীবন দিছে। আল্লাহ উনাকে ভালো রাখুক, গরীবের পাশে যেন সবসময় থাকতে পারেন।”
🔹 সমাজে ইতিবাচক বার্তা
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। অনেকেই বলেন, যখন একজন মানুষের জীবিকা বন্ধ হয়ে যায়, তখন শুধু সহানুভূতি নয়—বাস্তব সমাধান প্রয়োজন। আর সেই সমাধানের পথ দেখিয়েছে এই উদ্যোগ।
৫ মার্চ ২০২৬-এর এই বিকেল তাই শুধু একটি রিকশা উপহার দেওয়ার দিন নয়—এটি ছিল একটি পরিবারের নতুন করে বেঁচে ওঠার গল্প।
নিজস্ব সংবাদ







