তৈমুর হত্যার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ করে ৯৪ ব্যাচের বন্ধুদের গ্রুপগুলোতে প্রতিবাদ, ক্ষোভ ও তীব্রনিন্দার ঝড় বইছে। সবাই প্রশাসনের কাছে সাবেক ক্রিকেটার কাউছার আলম চৌধুরী তৈমুর হত্যার সুষ্ঠ বিচার দাবী করছে।
ঘুমন্ত অবস্থায় শরীরে গরম পানি ঢেলে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘদিনের বন্ধু-বান্ধব ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মর্মাহত।
হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার তাঁর স্ত্রী খাদিজা বিনতে শামস ওরফে রূপা চৌধুরীকে পাঁচদিনের রিমান্ডে চেয়েছে পুলিশ। রিমান্ডের আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী থানার এসআই আব্দুর রহিম। সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ফেনীর আদালতে এ আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) শুনানি করা হবে।
মামলার বাদী নিহতের ভাই তানজুর চৌধুরী দাবি করেন, মৃত্যুশয্যায় তৈমুর একটি ‘জবানবন্দি’ দিয়ে গেছেন। সেখানে তার মৃত্যুর জন্য স্ত্রীকে দায়ী করেছেন। ঢাকার বার্ন ইন্সটিটিউটের একজন চিকিৎসক সেটি লিপিবদ্ধ করেছেন। আইসিইউতে মোবাইল বা অন্য কোনো ডিভাইস নিয়ে যাওয়া যায় না। তাই চিকিৎসক নিজের হাতে তৈমুরের কথা লিখেছেন। লেখার পর সেখানে তৈমুরের আঙ্গুলের ছাপ ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সেটি এখনও পরিবারের কাছে আছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে তা দেওয়া হবে।

এদিকে বাংলাদেশ প্রতিদিন ও মাছরাঙ্গা টিভি প্রতিনিধি জমির উদ্দিন বেগ লিখেছেন, “তৈমুরের প্রকৃত হত্যাকারী আসলে কে? হত্যা বাস্তবে কে করেছে তা এখনও ধোঁয়াশা! নিউজ করেছি মামলার বরাত, তৈমুরের ছোট ভাইর বরাত ও ভাইর জমা দেয়া কিছু ডুকুমেন্টেস অনুযায়ি। বাস্তবতা আসলেই ক্লিয়ার হয়নি। পুলিশ অধিকতর তদন্ত করবে এমনটাই প্রত্যাশা। স্বাক্ষর ও টিপসহি আসলে কার। টিপসহিতো মুমুর্ষ অবস্থায় নেয়াটা একেবারে সোজা। মুমুর্ষ অবস্থায় কী মোবাইলে তৈমুরের জবানবন্ধী রেকর্ড করা যেতনা। আরও অনেক কিছুই আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তৈমুরেরতো শুধু দুইটি মেয়ে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো ছিলনা ঠিকই কিন্তু কখনও মনে হয় তেমন ঝগড়া ঝাটি হতো না। তারা একই ছাদের নীচে থাকলেও ভেতরের রুমে তার স্ত্রী থাকতো মেয়েদের নিয়ে। সেই দরজাটি বন্ধ থাকতো। সামনের রুমের যেখানে তৈমুর থাকতো সেই দরজাটি সবসময় সামনের দিক দিয়েই খোলা থাকতো। নীচের তলায় ছোট ভাই থাকতো। তৃতীয় তলায় অন্য কেউ থাকতো। অপর ভাই ভাড়া বাসায় থাকে। তাদের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১৫ বছর আগে। হয়তো তাদের বিয়ে নিয়ে কথা আছে। তারপরও তারাতো ভালোই ছিল। কারও বিরুদ্ধে কারও তেমন বড় ধরনের অভিযোগ ছিলনা বলে জানা যায়।”

তানজুর চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, ভাই-ভাবির সংসারে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিলো। তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে। গত সোমবার ভোর ৬টার দিকে তাদের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ভাইয়ার চিৎকার শুনে পাশের ফ্ল্যাট থেকে দৌড়ে যাই। গিয়ে দেখি, গরম পানি ঢেলে ভাইয়ার শরীর ঝলসে দেওয়া হয়েছে। তখন ফ্ল্যাটে ভাই, ভাবি ও তাদের দুই মেয়ে ছাড়া আর কেউ ছিল না।”
পরে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার শরীরের ৬০ শতাংশ ঝলসে যায় বলে চিকিৎসকরা জানান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।







