ঘোষককে দেখতাম স্যুট পরা-নেকটাই! বিটিভির কল্যাণে সামনে যা আসত, তাই দেখে জনগণ কাঁদত ও হাসত!
সরকারি চ্যানেলটা নিয়ে কত দ্বন্দ্ব– কেউ চায় ভাটিয়ালি, কেউ ছায়াছন্দ! সব সরকারই এসে সবচেয়ে আগামে বিটিভির ঘোড়াটাকে বেঁধে ফেলে লাগামে!
ক্ষমতাকে ঘিরে ধরা মাছি আর মশকে অবস্থা ভয়াবহ আশির সে দশকে, তখন বিটিভি ছিল এমনই যে অস্ত্র– বিরোধী দলের খুলে নেয়া যেত বস্ত্র!
এরশাদ ছিল গোদা–লুটেরা সে দলটির, একেকটা চ্যালা ছিল ওস্তাদ, পল্টির! খবরে চড়িয়ে রঙ সে কী পরিবেশনা! পাকিপ্রেমী ছাড়া কেউ ধারেকাছে ঘেঁষো না!
বঙ্গবন্ধু নাম নিষিদ্ধ করতে, নাটক-অনুষ্ঠান বেঁধে দিত শর্তে! হানাদার পাকসেনা মুখে বলা যাবে না, এটাতে যে রাজি নয়, সুযোগ সে পাবে না।
তবু কেউ করে গেছে প্রতিবাদ-যুদ্ধ, সাজে নি সুযোগ বুঝে গৌতম বুদ্ধ! চাকরি বাঁচাতে তাঁরা কাটায় নি পাশটি, ঝুঁকি নিয়ে তুলে ধরে গেছে ইতিহাসটি!
স্বৈরাচারের পোষা বর্বর বাহিনী, গড়ে দিত যার তার অন্তিম কাহিনী, হিংস্রতা চর্চায় রাখত না ক্লান্তি, চাকরি খেতই, সাথে খেয়ে দিত প্রাণটি!
এসব জেনেও তাঁরা পিছুদিকে হটে না– জানে তাঁরা, প্রতিবাদ ছাড়া কিছু ঘটে না! জাতির পিতার কাছে এ জীবনভর দায়, মেলে ধরা হল তাঁকে বিটিভির পর্দায়!
চারদিকে হইচই, কর্তারা ক্ষিপ্ত… ঘটনা ঘটালো যারা, সবিশেষ তৃপ্ত। জীবনটা সঁপে দিয়ে প্রতিবাদী যজ্ঞে, এবারে তৈরি তাঁরা–যা হবার হোক গে!
ঘটনার মূল যিনি, আমাদের গর্ব– ধরেছেন তুলে এই ইতিহাস পর্ব, শ্রদ্ধা জানাই লিখে ছড়াটি নগণ্য লুৎফর রহমান রিটনের জন্য!
প্রতিবাদী তিনি শুধু ছড়াকার নন তো, দালালকে হারালেন শেষপর্যন্ত! মুখ না লুকিয়ে রেখে–বাঙালির স্পর্ধায় বিপ্লব ঘটালেন বিটিভির পর্দায়!
…………….
একটাই কথা শুধু বলে যাই শেষটা– বিটিভিটা একই আছে বদলিয়ে বেশটা, চোখ নেই দুর্নীতি-নৈতিক স্খলনে, আজও তারা মেতে আছে বাতাবির ফলনে!
(১৯৮৯ সালে যখন বিটিভিতে স্বৈরাচারী এরশাদ দৌদর্ণ্ডপ্রতাপে বিদ্যমান–বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এসব উচ্চারণ নিষিদ্ধ ছিল, তখন ছড়াকার লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে তাঁর বন্ধু বিটিভির রেকর্ডিং ও এডিটিং বিভাগের সদস্য সালেহ আহমদ চরম ঝুঁকি নিয়ে গোপনে এডিট করে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দৃশ্য সংযোজন করেন তাঁর গ্রন্থনা করা অনুষ্ঠানে।
বিটিভির ২৫ বছর উপলক্ষে প্রচারিত অনুষ্ঠানটি অন এয়ারে চলে গেলে তখন কর্তৃপক্ষের আর কিছু করার থাকে না!
রিটন ভাইয়ের লেখায় তুলে ধরা এই ঘটনাটি খুবই আলোড়িত করে আমাকে। মনে হয় এ নিয়ে ছড়াকার হিসেবে আমারও একটা কিছু লেখা উচিত।
ইতিহাসকে নতুন চেহারায় তুলে ধরার পাশাপাশি আমাদের ছড়াসম্রাট লুৎফর রহমান রিটনকে নতুন প্রজন্মের ছড়াকার হিসেবে শ্রদ্ধা জানানোটাও জরুরি বলে মনে হয়।