নেপাল–তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদ ও বন্যাকবলিত এলাকার aerial view
ছবি: সংগৃহীত

নেপাল তিব্বত বন্যা। নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভূমিধসে সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদের পানি শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপচে পড়তে শুরু করায় ভাটি অঞ্চলে নতুন করে বিধ্বংসী বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে; এতে উদ্ধারকর্ম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেছেন।

সাম্প্রতিক আপডেট: হ্রদের পানির পরিমাণ, ঝুঁকি ও উদ্ধারকর্মের অবস্থা

  • হ্রদের পানির আয়তন: শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বাঁধ দিয়ে আটকে থাকা পানির পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার (২.৫ মিলিয়ন কিউবিক মিটার) ছুঁয়েছে, যা আগের দিনের ১৫–২০ লাখ ঘনমিটারের তুলনায় অনেক বেশি।
  • অতিরিক্ত পানি প্রবাহের পূর্বাভাস: চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ধারণা, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদে প্রবেশ করতে পারে, যা “বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উচ্চঝুঁকি” বাড়িয়ে তুলছে।
  • উদ্ধারকর্ম স্থগিত ও পরে পুনরায় শুরু: পানি উপচে পড়ার খবরে শুক্রবার সকালে নেপাল ও তিব্বত উভয় পাশেই নিম্নাঞ্চল থেকে উদ্ধারকর্মী ও যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হয়; তবে দুপুরের মধ্যে ঝুঁকি “পরিচালনাযোগ্য” মূল্যায়ন করে চীন আবার উদ্ধারকর্ম চালু ও ত্বরান্বিত করেছে বলে সি সি টিভি জানিয়েছে।
  • নেপালের সতর্কতা: নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা রাসুয়া জেলায় নতুন বন্যার সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে উঁচু স্থানে সরে যেতে বলেছে।

আরো পড়ুন- নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ ডেব্রিস ফ্লো

হতাহত ও নিখোঁজ: সংখ্যায় নতুন চিত্র

  • নেপালে নিহত: বুধবারের হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপালে নিহতের সংখ্যা ৫৪৭-এ পৌঁছেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • চীনে (তিব্বত) নিহত: তিব্বতের জিরং/গিয়াং কাউন্টি অংশে অন্তত ৫ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
  • নিখোঁজ: নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় ১,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন; এর মধ্যে প্রায় ৫৪০–৫৫৮ জন বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা

হিমালয়ের এই আকস্মিক বন্যায় কাঠমান্ডু–লাসা সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, কালভার্ট ও পাকা সেতু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে; ফলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় ভিডিওতে বিশাল বড় পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদীর স্রোতে ভেসে যেতে দেখা গেছে, যা অবকাঠামোর ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কেন হ্রদ তৈরি হলো ও কীভাবে নজরদারি চলছে

  • কারণ: প্রাথমিক তদন্তে বলা হচ্ছে, হিমবাহের অংশ ধসে পড়ার ফলেই এই বিপর্যয় ঘটে; ভূমিকম্প নয়।
  • বাঁধের মাপ: চীনা পর্যবেক্ষক দলের তথ্য অনুযায়ী, হ্রদ তৈরি করা প্রাকৃতিক বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ মিটার এবং উচ্চতা ৪০–৫০ মিটার
  • নজরদারি পদ্ধতি: চীন আকাশপথে ড্রোন ব্যবহার করে হ্রদের ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করছে এবং বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটর করছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেপালকে সব ধরনের জরুরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং পরিস্থিতিকে “অভূতপূর্ব ও অত্যন্ত ভয়াবহ” আখ্যায়িত করেছেন।

[-এর প্রসঙ্গ অনুযায়ী ট্রাম্পের সহায়তা প্রস্তাব] তবে নেপাল এখন পর্যন্ত বিদেশি সার্চ-অ্যান্ড-রেসকিউ দল গ্রহণ করেনি; দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমান পর্যায়ে এটি অপ্রয়োজনীয়।

জনগণের জন্য পরামর্শ ও নিরাপত্তা নির্দেশনা

  • রাসুয়া জেলা ও ত্রিশুলি/ভোটেকোশি নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে উঁচু স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
  • নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে পারে; তাই জরুরি সতর্কবার্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
  • সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অপ্রয়োজনে ভ্রমণ এড়িয়ে চলা ও উদ্ধারকর্মীদের কাজে সহায়তা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।
তথ্যসূত্র:

Reuters, BBC News, CNN, The New York Times, NBC News, Wikipedia, Internazionale, Atalayar