তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মহান সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ সোমবার (১ জুন ২০২৬) বেলা সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও তোফায়েল আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজডসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

ধানমন্ডিতে প্রথম জানাজা, দাফন ভোলায় মায়ের কবরের পাশে

তোফায়েল আহমেদের ব্যক্তিগত সহকারী আবুল খায়ের এবং তাঁর জামাতা সাবেক এমপি ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন জানান, মরহুমের প্রথম জানাজা রাজধানীর ধানমন্ডির ১২/এ-তে অবস্থিত তাকওয়া মসজিদে বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে মরদেহের গোসল সম্পন্ন করার পর জানাজা শেষে আজ রাতের জন্য মরদেহটি আবারও স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে নিয়ে আসা হবে।

আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে হেলিকপ্টারযোগে তাঁর মরদেহ নিজ জেলা ভোলায় নেওয়া হবে। সেখানে ভোলা সার্কিট হাউজ ময়দানে জানাজা শেষে তাকে তাঁর মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

দীর্ঘদিন ছিলেন লাইফ সাপোর্টে

স্কয়ার হাসপাতালের প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদ নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও তীব্র শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল এবং সেখানেই তিনি আজ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন。

এক নজরে কিংবদন্তি তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবন

বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

  • ডাকসু ভিপি ও গণ-অভ্যুত্থান: ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গৌরবোজ্জ্বল ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৬৯-এর ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে তিনি অনন্য ও নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রাখেন।
  • সংসদীয় রাজনীতি: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে চমক দেখান। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি মোট ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
  • মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ: বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর এই মহাপ্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।