ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিলো উত্তরবঙ্গগামী ১৫টি পরিবারের। ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের কালিহাতীতে রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে ১৫ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৩ জনের বাড়িই নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা সবাই ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।
সোমবার (২৫ মে ২০২৬) ভোর ৪টার দিকে কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই লোমহর্ষক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
রড ও চাকার নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গগামী ওই ট্রাকটিতে রড পরিবহনের পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে বিপুল সংখ্যক যাত্রী তোলা হয়েছিল। ভোর ৪টার দিকে সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং রডবোঝাই ট্রাকটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়।
এ সময় ট্রাঙ্কের ওপরে ও পেছনে থাকা যাত্রীরা ভারী রড এবং চাকার নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন যাত্রী পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান এবং আহত হন অন্তত ৬ জন।
থানা চত্বরে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ
কালিহাতী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রড কেটে এবং ট্রাকটি সোজা করে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়।
সকালে দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে যমুনা সেতু পূর্ব থানায় নিয়ে আসা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, থানা চত্বরের খোলা মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ১৫টি মরদেহ। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের খবর দেওয়ার পর থানা চত্বর জুড়ে শুরু হয় বুকফাটা আর্তনাদ। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয় পুলিশ।
১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর মান্দায়
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামছুল আলম সরকার বলেন, “বিভিন্ন স্পট থেকে ট্রাকটিতে যাত্রী তোলা হয়েছিল। নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ।”
প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁর মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়িই মান্দা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। তাদের পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।










