ইন্টারন্যাশনাল লিজিং

আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড-এ (ILFSL) চরম প্রশাসনিক অস্থিরতা, বোর্ড কার্যক্রমে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ এবং নির্দিষ্ট স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে । প্রতিষ্ঠানটির স্বতন্ত্র পরিচালক আহমদ মুসফেক আনামের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা ।

অভিযোগকারীদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সহায়তায় এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ অকার্যকর করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা দেশের সার্বিক আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে ।

বারবার এমডি বদল ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় অস্থিতিশীলতা

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পরিবর্তন করা হয়েছে । অভিযোগ রয়েছে, একটি মহলের চক্রান্তের কারণে বেশ কয়েকজন এমডি তাদের পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করতে পারেননি এবং শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় বারবার কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হয়েছে ।

বোর্ড সভায় অসহযোগিতা ও ‘ডিপোজিটরস ফোরাম’ আতঙ্ক

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বোর্ড সভাগুলোতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হচ্ছে । নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় উত্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টির মাধ্যমে বোর্ডকে অচল করার চেষ্টা চলছে ।

একই সঙ্গে, বোর্ড সভার চলাকালীন “ডিপোজিটরস ফোরাম” পরিচয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিয়মিত অফিস প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত বলে অভিযোগ উঠেছে । তারা জোরপূর্বক বোর্ডরুমে প্রবেশের চেষ্টা, স্লোগান ও হুমকি প্রদান করত, যার সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরাপত্তা রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা ও পিকে হালদার যোগসূত্র

প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও অবৈধ হস্তক্ষেপ করা হয়েছে । এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বরখাস্ত হওয়া কিছু কর্মকর্তাকে পুনর্বহালের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় ।

আরো পড়ুন– ইন্টারন্যাশনাল লিজিং-এ ‘ত্রাসের রাজত্ব’

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে যে:

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে সাংঘর্ষিক প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল ।
  • ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলে ।
  • চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া এবং কোম্পানির গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে বোর্ড সভা আয়োজনের চেষ্টা করা হলে পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে তা স্থগিত হয় ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অতীতের আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারি, বিশেষ করে পি.কে. হালদার সংশ্লিষ্ট ঋণ অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান এই ঘটনাপ্রবাহের কোনো সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ।

পূর্ণাঙ্গ গোয়েন্দা তদন্তের দাবি

এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ গোয়েন্দা তদন্ত, অডিও-ভিডিও ও নথিপত্রের ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর আর্থিক লেনদেন তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা ।

তবে এই সব অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্র পরিচালক আহমদ মুসফেক আনাম কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি ।