ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে অভিযুক্ত মাজেদুল হক হেলাল আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় হেলাল স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তা রেকর্ড করার আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও তদন্তের গতিপথ
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
এই ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে মামলাটি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় থাকলেও, হাদির মৃত্যুর পর আদালতের নির্দেশে ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজন করা হয়।
নারাজি ও অধিকতর তদন্ত
গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিলেন। তবে ওই চার্জশিটে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য এবং অনেক অপরাধী বাদ পড়েছে উল্লেখ করে মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি আদালতে ‘নারাজি’ আবেদন করেন।
আদালত বাদীর আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে (CID) দায়িত্ব প্রদান করেন। সিআইডির তদন্ত চলাকালীনই অস্ত্র সরবরাহকারী হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৫ এপ্রিল আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, হেলালের জবানবন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী এবং অর্থদাতাদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।







