ইরান হুমকি যুক্তরাষ্ট্র

ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে, তাহলে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও ওমান সাগরে সব ধরনের রপ্তানি-আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়কারী সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ চালিয়ে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে, তাহলে এটি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সূচনা বলে গণ্য হবে।” ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তখন পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে কোনো রপ্তানি বা আমদানি চলতে দেবে না।

যুদ্ধবিরতির মাঝে নতুন উত্তেজনা

এই হুমকি এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ‘কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে’ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, তেহরান ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হলেও নতুন কোনো বৈঠকের তারিখ এখনও নিশ্চিত হয়নি। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।

৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তাহলে সংঘাত আবার তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রেক্ষাপট

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারেনি। ইরান এই অবরোধকে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রথম দফা আলোচনায় (ইসলামাবাদ সংলাপ) কোনো চুক্তি হয়নি। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দল এবং ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ কর্মকর্তারা ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেও সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি।

আপডেট: পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দ্রুত পরিবর্তনশীল। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, তেলের দাম এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর এই উত্তেজনার বড় প্রভাব পড়তে পারে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে জানাব।

(সূত্র: ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, বিবিসি, রয়টার্স, এপি, ডয়চে ভেলে)