কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পাঁচ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। আজ রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে রেললাইন থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রেন সরিয়ে নেওয়ার পর ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
উদ্ধার অভিযান ও রেল সচল
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে একটি বিশেষ রিলিফ ট্রেন এসে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী দলটি দুর্ঘটনাকবলিত ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটিকে উদ্ধার করার পাশাপাশি রেললাইনে আটকে থাকা ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের বাসের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলে। এরপরই লাইন সচল ঘোষণা করা হয়। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতি
শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। দ্রুতগতির ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায়। এতে এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৩টি শিশু ও ২ জন নারী রয়েছে। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেটের সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, যথাযথ সিগন্যাল না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে গিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, দুর্ঘটনার সময় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিয়েও তাৎক্ষণিক সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
রেলওয়ে ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই ঘটনায় কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।










