নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত স্কলাস্টিকা সিনিয়র ক্যাম্পাসে উদযাপিত হলো ‘একুশে বইমেলা ২০২৬’।
গত ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী এই মেলা স্কুলের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রকাশনী অংশগ্রহণ করে, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

মেলায় অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য প্রকাশনীগুলোর মধ্যে ছিল ইগনাইট পাবলিকেশনস, প্রথমা প্রকাশন, ওয়াইসিস বুকস, আনন্দ বুক সাপ্লাই, পপ-আপ বুকশপ এবং আগুনের ফুলকি। গল্প, কবিতা, সায়েন্স ফিকশন এবং অনুবাদসহ নানা বৈচিত্র্যময় বইয়ের সমাহারে মুখরিত ছিল এই আয়োজন।
ডিভাইসের আসক্তি কাটিয়ে বইয়ের জগতে ফেরা
বর্তমান ডিজিটাল যুগে কিশোর-কিশোরী ও তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ স্মার্টফোন, গেম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রিনে বন্দি হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে স্কুল প্রাঙ্গণে বইমেলার আয়োজন শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে সরিয়ে অক্ষরের জাদুকরী দুনিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার একটি বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

কেন বই পড়ার অভ্যাস জরুরি?
মেলার এক আলোচনায় শিক্ষকরা জানান, কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে মেধার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। বই পড়ার মাধ্যমে:
- শব্দভাণ্ডার ও ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
- কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীল চিন্তা প্রসারিত হয়।
- সহমর্মিতা ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়।
“একটি বই পড়ার অভ্যাস মানে হলো এক হাজারটি জীবন যাপন করা। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন কেবল যান্ত্রিক শিক্ষায় বড় না হয়ে একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।” — জনৈক শিক্ষক।

প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন উদ্যোগ প্রয়োজন
স্কলাস্টিকা ক্যাম্পাসের এই আয়োজন দেখে অভিভাবক ও দর্শনার্থীরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু বড় পরিসরে অমর একুশে বইমেলাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রতিটি স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণে নিয়মিত বিরতিতে এমন বইমেলার আয়োজন করা উচিত। যখন বই সরাসরি শিক্ষার্থীদের হাতের কাছে পৌঁছাবে, তখনই তাদের মধ্যে পড়ার আগ্রহ জন্মাবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি লাইব্রেরি সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি এমন মেলার আয়োজন করে, তবে স্মার্টফোনের নীল আলোর আসক্তি কাটিয়ে শিক্ষার্থীরা আবার কাগজের বইয়ের ঘ্রাণে বেড়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।








