রাজধানীর গুলশানে সুলতান’স ডাইন শাখার কাচ্চিতে মাংস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছিলেন ভোক্তা, যা পরে ভাইরাল হয়। এরপর শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
আজ সেখানে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সুলতান’স ডাইনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এতে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল। এ সময় অভিযানে সহযোগিতা করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান ও ফারহানা ইসলাম অজন্তা।
আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, ফেসবুকে সুলতান’স ডাইনের কাচ্চির মাংস নিয়ে ভিডিও ও তথ্য ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি অধিদপ্তরের নজরে এলে মহাপরিচালক বিষয়টি নিয়ে বিশেষ অভিযান করার নির্দেশ দেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সুলতান’স ডাইনের গুলশান শাখায় তদন্ত করতে এসেছি। আমরা সুলতান’স ডাইনের কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের কাচ্চিতে দেওয়া মাংস কোথা থেকে আনা হচ্ছে বা মাংস সংগ্রহের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানতে চাই। কিন্তু তারা বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।
আবার যেগুলোর উত্তর দিয়েছে তাও সব সন্তোষজনক নয়। এজন্য তাদেরকে আগামী সোমবার অধিদপ্তরে তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে বলেছি। তাদের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। যদি কোনো অনিয়ম মেলে তাহলে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুলতান’স ডাইনের গুলশানের ম্যানেজার আশরাফ আলম বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের লোকজন এসেছিল। তারা আমাদের আগামী সোমবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে। এছাড়া অনুমোদিত ভেন্ডর থেকে মালামাল নিতে বলেছে ও হাইজিন মেনটেইন করতে বলেছে।
বুধবার (৮ মার্চ) দুপুরের পর থেকে ফেসবুকে সুলতান’স ডাইনের কাচ্চি বিরিয়ানির মাংস নিয়ে তুমুল হইচই পড়ে যায়। আর অভিযোগটি তুলেছেন কানক রহমান খান নামের এক ভোক্তা।
কাকন রহমান খান স্ট্যাটাসে লেখেন, গত বৃহস্পতিবার তিনি সুলতান’স ডাইন থেকে ৭টি কাচ্চি এনেছিলেন। খাবার সময় মাংসের হাড় দেখে সন্দেহ হয় তার। মাটন (খাসির মাংস) বলা হলেও তিনি অভিযোগ করে লেখেন, মাটনের হাড় এমন চিকন হয় না।
এরপর দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, এই ঘটনার পর সুলতান’স ডাইনের গুলশান ২ এর নম্বরে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করেন এটা কিসের মাংস ছিল? পরে তারা ২জন লোকসহ আবার খাবার পাঠায়। ওনাদের এজিএম আশরাফও আসেন নতুন খাবারের সঙ্গে।
তিনি লেখেন, আগের প্যাকের খাবারের হাড়ের সঙ্গে এবাবের মাংসের তুলনা করতে বললে এজিএম আশরাফ মানতেই নারাজ হয়ে বলেন, জেনেশুনে এমন মাংস দেয় না।
তারা বলে, তাদেরকে যে ভেন্ডর মাংস দেয়, তারা আসলে কোন কিছু করতে পারে।
এরপর এজিএমকে প্রশ্ন করা হয়- তাহলে ভেন্ডরের কাছ থেকে মাংস নেয়ার সময় কি আপনাদের মত এত বড় ব্রান্ডের কোনো কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার নেই?
আপনি কি ২টা মাংস সেইম দেখতে পাচ্ছেন প্রশ্ন করলে ওনারা উল্টা প্রশ্নকরে তাহলে আপনারা কি দিয়ে মিটাতে চান? ইন্ডিরেক্টলী টাকা অফার করে এবং বলে আপনারা ঝামেলা করলে আমরাও জানি কি করতে হয়।
এরপর ৯৯৯ এ কল দেন ওই ভোক্তা। ৯৯৯ থেকে বলে বিএসটিআই এর নম্বরে অভিযোগ করতে।
এ বিষয়ে গুলশান-২ সুলতান’স ডাইন শাখার মার্কেটিং কমিউনিকেশন অফিসার ববি রানি দাস গণমাধ্যমকে জানান, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। সুলতান’স ডাইন অনেক বড় প্রতিষ্ঠান। এক ক্রেতা বিড়ালের মাংসের বিরিয়ানির যে অভিযোগ করেছেন, তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পুরো অভিযোগটাই ভিত্তিহীন।
ওই ক্রেতার পরিচয় আমরা জানি না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে উনি খাবার নেওয়ার দুই ঘণ্টা পর অভিযোগ করেন বলে জানান তিনি। ওই গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, এগুলো কিসের মাংস দিয়েছেন, বিড়ালের মাংসের বিরিয়ানি। আমরা বলেছি, এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।








