এ ব্যাপারে পুলিশের আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আরাভ খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যেভাবে দরকার সেই ভাবে আমরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, দুবাইতে স্বর্ণের দোকান উদ্বোধনের খবরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় আলোচনার ঝড় বইছে। দুবাইয়ের হিন্দ প্লাজায় আরাভ জুয়েলারি নামে এই দোকানটির মালিক কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের আশুতিয়া গ্রামের আরাভ খান বলে জানা গেছে। তবে তার প্রকৃত নাম সোহাগ মোল্লা বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সোহাগ মোল্লা আশুতিয়া গ্রামের দিনমজুর মতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। মতিয়ার রহমান মোল্লা এক সময় বাগেরহাট জেলার চিতলমারি উপজেলায় ফেরি করে সিলভারের হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করতেন। এখানেই ১৯৮৮ সালে সোহাগ মোল্লার জন্ম হয়।
২০০৫ সালে চিতলমারি সদরের একটি বিদ্যালয় থেকে সোহাগ মোল্লা এসএসসি পাশ করে। দারিদ্র্যতার কারণে এরপর আর তার লেখাপড়া হয়নি। চিতলমারি থেকে ২০০৮ সালে ভাগ্যের অন্বেষণে সে ঢাকা চলে যায়। ঢাকা গিয়ে নাম পরিবর্তন করে হয়ে যায় মোল্লা আপন। জড়িয়ে পড়ে অপরাধ জগতে। ঢাকায় পুলিশ হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ডজন খানেক মামলা হয়।
এরপর পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা আপন, ওরফে রবিউল ইসলাম রবি, ওরফে শেখ হৃদি, ওরফে আরাভ খান ভারতের কলকাতায় পালিয়ে যায়। সেখান থেকে সে চলে যায় দুবাইয়ে।
সরেজমিনে আশুতিয়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় সোহাগ মোল্লা ওরফে আরাভ খানের চাচাতো ভাই ফেরদৌস মোল্লার সঙ্গে। তিনিও সোহাগ মোল্লা ওরফে আরাভ খান অল্প দিনে এত টাকার মালিক হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ফেরদৌাস মোল্লা জানান, কিছু দিন আগে সোহাগ মোল্লা ওরফে আরাভ খান তার দুই বোন ও মা বাবাকে দুবাই নিয়ে গেছে।
হিরণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজাহারুল আলম পান্না বলেন, সোহাগ মোল্লা ওরফে আরাভ খান একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। গত পাঁচ সাত বছর ধরে সে এলাকায় আসে না। হঠাৎ করে সে কীভাবে এত টাকার মালিক হলো এটা আমাদের বোধগম্য নয়।
কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. জিল্লুর রহমান বলেন, সোহাগ মোল্লা ওরফে মোল্লা আপন, ওরফে রবিউল ইসলাম রবি, ওরফে শেখ হৃদি, ওরফে আরাভ খানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৯টি ওয়ারেন্ট আমার থানায় এসেছে। কিন্তু তার কোনো হদিস আমরা পাইনি।
সূত্রঃ ইত্তেফাক









