Home আমার ঢাকা ঢাকার আশেপাশে কিছু কাশবনের খোঁজখবর

ঢাকার আশেপাশে কিছু কাশবনের খোঁজখবর

134
0
ঢাকার আশেপাশে কিছু কাশবনের খোঁজখবর
মডেল: শম্পা জামান

শরৎ মানেই আকাশে নরম তুলোর মতো শুভ্র মেঘের ভেসে বেড়ানো আর দিগন্তজোড়া প্রান্তরে কাশফুলের মনোরম দৃশ্য। প্রকৃতি প্রিয় মন খেয়াল খুশি মত আকাশে ভেসে বেড়াতে না পারলেও ইচ্ছে হলেই কাশফুলের রাজ্যে হারিয়ে যেতে পারে। আর তাই নগরীর বুকে ব্যস্ততার অবসরে কাশফুলের বিস্তৃর্ণ প্রান্তরের সৌন্দর্য উপভোগকারীর সংখ্যা কম নয়। সাধারণত নদী তীর এবং পানির কাছাকাছি ফাকা বালুময় জমিতে প্রচুর কাশফুল ফুটে।

কাশফুলের শুভ্রতায় মনকে শান্ত করতে আজকের আয়োজনে থাকছে ঢাকার আশেপাশে কিছু কাশবনের খোঁজখবর।

৩০০ ফিট সড়ক
প্রকৃতিপ্রেমী এবং ভোজন রসিকদের কাছে প্রসিদ্ধ ৩০০ ফুট সড়ক কাশফুল আর রেস্তোরাঁর জন্য সর্বাধিক পরিচিত ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে রেস্তোরাঁগুলো ৩০০ ফিট থেকে সরিয়ে নেয়া হলেও কাশবন, নদী এবং বিস্তৃত খোলা প্রান্তরের সৌন্দর্য আগের মতোই অটুট রয়েছে। কালো কুচকুচে পিচঢালা রাস্তার দুইপাশে শুভ্রতার সমারোহ মনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় কল্পনার রাজ্যে।

ডিয়াবাড়ি
গত কয়েক বছরে ডিয়াবাড়ির জনপ্রিয়তা তুমুলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ফটোসেশনে জন্য ডিয়াবাড়ি একটি আদর্শ জায়গা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে এখানে বিনোদনপ্রেমীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। আর কাশবনের পাশে নদীর তীরের হিমেল বাতাস আলোড়িত করে দর্শনার্থীদের।

আফতাবনগর
রামপুরা ব্রিজ থেকে উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত জহুরুল ইসলাম সিটির ভেতর দিয়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে গেলে কাশবনের আরেক মহাসমুদ্র চোখে পড়ে। ঢাকার এত কাছে আফতাবনগরের এই কাশবন জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সৌন্দর্য প্রেমীদের কাছে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

ঢাকার আশেপাশে কিছু কাশবনের খোঁজখবর
ছবিতে মডেল- মাহবুবা রাখী

হযরতপুর
কেরাণীগঞ্জের হযরতপুরের কালিগঙ্গা নদীর তীরের বিস্তৃর্ণ ভূমিতে শরতের শোভা কাশফুল ফোটে। বছিলা সেতু অতিক্রম করে আটিবাজার পার হয়ে আরো কিছু দূরেই হযরতপুর। খেয়া নৌকায় নদী পার হলে দেখা মিলবে কাশবনের।

মায়াদ্বীপ
মেঘনার বুকে কাশফুলের মায়া ছড়িয়ে আছে মায়াদ্বীপ। এই দ্বীপে কাশফুলের সৌন্দর্য দেখার সাথে সাথে বোনাস হিসাবে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার সাথে পরিচিত হতে পারবেন। ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে চড়ে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা হয়ে বৈদ্দের বাজার এসে সেখান থেকে মেঘনার ঘাট হয়ে ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করে মায়াদ্বীপ যাওয়া যায়।

মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ
নদীর তীরবর্তী বালুময় প্রান্তরে শরতে কাশফুলের মেলা বসে। আর বুড়িগঙ্গা তীরের মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ কাশফুলের তেমনি এক রাজ্য। এছাড়াও বসিলা সড়ক ধরে এগিয়ে ওয়াশপুরের বিভিন্ন ফাকা জমিতে কাশফুলের সমারোহ দেখা যায়।

সারিঘাট
ঢাকার কাছেই কেরানীগঞ্জের সারিঘাট গ্রাম্য পরিবেশে কাঁশফুল দেখার জন্য শ্রেষ্ঠ জায়গা। খালের স্বচ্ছ পানিতে বাচ্চাদের লাফিয়ে পড়া, মাছ ধরা আর মাঝিদের নৌকা পাড়াপাড়ের দৃশ্যের মাঝে শহরের তাড়না থেকে রেহাই মিলে। দু’পাশে সান্ত্রীর মত নুয়ে পড়ে গাছগুলোর মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া পাঁকা রাস্তায় প্রতিটি কদমে সময় যেন থমকে যায়।

সুপরিচিত হবার পর থেকে জায়গাটিতে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েই চলেছে। খালের পানির আয়নায় যেখানে দিনান্তে আকাশের রঙ বদলে যায়, পাশের বালিয়ারিতে সন্ন্যাসী কাশফুলের ঝুঁকে ঝুঁকে প্রার্থনা তখনো থামে না। অন্যদিকে সেই পানির আয়নায় কোন এক ভ্রমণপিপাসুর গাছের সবুজ আর মেঘের ধূসর আলাদা করার চেষ্টায় নিয়ত বাধ সেধে যায় শেষ বিকেলের স্নিগ্ধ বাতাস।

সংস্কার করার ফলে বুড়িগঙ্গার সাথে সংযোগ থাকা এই খালটিতে বছরের প্রায় সব সময়ই পানি থাকে। পুরান ঢাকা পোস্তগোলা ব্রীজ থেকে চার কিলোমিটারের পথ বসুন্ধরা রিভারভিউ আবাসিক এলাকার একদম শেষ প্রান্তের এই জায়গাটি।

সূত্রঃ সংগৃহীত