Home বাংলাদেশ ছাত্রকে বিয়ে করা সেই শিক্ষিকার রহস্যজনক মৃত্যু! থানা হেফাজতে স্বামী

ছাত্রকে বিয়ে করা সেই শিক্ষিকার রহস্যজনক মৃত্যু! থানা হেফাজতে স্বামী

174
0
ছাত্রকে বিয়ে করা সেই শিক্ষিকার রহস্যজনক মৃত্যু! থানা হেফাজতে স্বামী
ছবিঃজুম বাংলা

ছাত্রকে বিয়ে করা খায়রুন নাহার (৪০) নামের ওই শিক্ষিকার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার বেলা ১১টার দিকে নাটোর সদরের বলারিপাড়ার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে ওই শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী মামুন হোসেনকে নিরাপত্তাজনিত কারণে নাটোর সদর থানা হেফাজতে রেখেছে পুলিশ।

দীর্ঘ প্রেমের পর শিক্ষিকা-ছাত্রের বিয়ের বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সম্প্রতি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিয়ের বিষয়টি আলোচনার পাশাপাশি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। একারণে ওই শিক্ষিকা তার দ্বিতীয় স্বামী মামুনের সঙ্গে নাটোর সদরের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করেন।

শিক্ষিকা খায়রুন নাহার গুরুদাসপুর পৌর সদরের খামারনাচকৈড় মহল্লার খয়বর আলীর মেয়ে। তিনি খুবজিপুর এমহক কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। স্বামী মামুন হোসেন উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পলশুড়া-পাটপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি নাটোর এনএস কলেজের ডিগ্রী
দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসিম উদ্দিন শিক্ষিকার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষিকার মৃত্যুর বিষয়টি তিনি জানতে পারেন।

শয়ন ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে লাশ ঝুলন্ত থাকার খবর পেলেও পুলিশ লাশটি শোয়ানো অবস্থায় পায়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ছাত্রকে বিয়ে করা সেই শিক্ষিকার রহস্যজনক মৃত্যু! থানা হেফাজতে স্বামী
ফাইল ছবি

ওসি বলেন, সকালে ওই শিক্ষিকার স্বামী মামুন হোসেন বাড়িতেই ছিলেন। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে পুলিশ হেফাজতে থানায় রাখা হয়েছে। তবে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে নাটোর সদরের বলারিপাড়ার নান্নু মোল্যা ম্যানশনের ৫ তলার একটি ফ্লাটের ৪ তলায় থাকতেন ওই শিক্ষিকা দম্পতি।

নান্নু মোল্যা ম্যানশনের প্রহরী নিজাম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, গতকাল শনিবার রাতে মামুন-খায়রুন দম্পতির বাসায় শুধু তাঁরাই ছিলেন।

শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে মামুন তাঁর কাছ থেকে প্রধান ফটকের চাবি নিয়ে বাইরে যান। ভোর ছয়টার সময় বাসায় ফিরে আসেন এবং সাতটার সময় তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান। পরে তারা মামুনকে সন্দেহ করে আটক করে রাখেন।

প্রহরী আরও জানান, শিক্ষিকা খায়রুনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে গলায় দাগ আছে। ড্রয়িং রুমের সিলিং ফ্যানে একটুকরা পোড়া কাপড় দেখা গেছে। কাপড়টির কিছু অংশ মেঝেতেও পড়ে ছিল। পোড়া কাপড়ের ব্যাপারে তিনি ভোরে মামুনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। ওই সময় মামুন বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি শোবার ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। পাশের রুমে শব্দ শুনে এসে তিনি তাঁর স্ত্রীকে ঝুলতে দেখেছেন। ওড়না খোলার জন্য তিনি তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন।

নিহত শিক্ষিকার স্বামী কলেজছাত্র মামুন হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, রোববার ভোর চারটার দিকে ঘুমন্ত স্ত্রীকে রেখে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাইক নিয়ে নাটোর জেলা কারাগারের সামনে গিয়েছিলেন তিনি। ভোর ৫টার দিকে ফিরে দেখেন দরজা খোলা। শয়নঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে স্ত্রীর দেহ ঝুলছে। এরপর তিনি ওই ফ্ল্যাটের প্রহরীকে খবর দেন।

নিহত শিক্ষিকার ছোট ভাই আব্দুল খালেক ইত্তেফাককে জানান, পরিবারের অসম্মতি থাকার পরও তার বোন এক কলেজছাত্রকে বিয়ে করেন। মূলত এরপর থেকে শিক্ষিকা বোনের সঙ্গে তাদের সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, খায়রুন নাহারের প্রথম বিয়ে হয়েছিল বাঘা উপজেলার আড়ানী গ্রামের জহুরুল ইসলামের সঙ্গে। সেখানে এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। ২০০০ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর থেকে দুই সন্তান নিয়ে বোন খায়রুন বাবার বাড়ির পাশে নিজস্ব বাড়িতে থাকতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মামুনের কয়েকজন বন্ধু বলেন, শিক্ষিকা খায়রুন নাহারের ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল মামুন হোসেনের। ওই সূত্র ধরেই মামুন শিক্ষিকার বাড়িতে নিয়োমিত যেতেন। ২০২১ সালের ২৪ জুন তাদের প্রথম পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুর মায়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মামুনের। এরপর ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর ছাত্র-শিক্ষিকা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ছয় মাস আগে বিয়ে করলেও দিন ১৫ আগে বিয়ের খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।

নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসিম উদ্দিন বলেন, ময়না তদন্তের জন্য লাশটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষিকার স্বামী মামুন হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

সূত্রঃ ইত্তেফাক