লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম সারডুবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবককে প্রধান শিক্ষকের জুতা দিয়ে পেটানো ঘটনায় তিন দিন ধরে স্কুলে আসতে না কোনো শিক্ষার্থী। ফলে ক্লাসরুমে এবং লাইব্রেরিতে বসে সময় পার করছেন শিক্ষক শিক্ষিকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দেরি করে স্কুলে আসার বিষয় নিয়ে কথা বললে এক অভিভাবককে পায়ের জুতা দিয়ে মারধর করেন প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার ছবি। এ ঘটনায় ১৯ জুলাই দুপুরে প্রধান-শিক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা মহাসড়কে মানববন্ধন করে। এ ঘটনার পর স্থানীয় ১১ জন অভিভাবকের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রয়েছেন, কিন্তু কোনো শিক্ষার্থী নেই। প্রধান শিক্ষকসহ ৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ক্লাস রুমে বসে এবং কয়েকজনকে লাইব্রেরিতে বসে সময় পার করতে দেখা গেছে। অভিভাবকদের দাবি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার ছবির বদলি না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীকে স্কুলে পাঠানো হবে না।
এ সময় অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার ছবির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অভিভাবককে জুতা দিয়ে পেটানো, দায় সাড়া দায়িত্ব পালন, সময়ের ব্যাপারে উদাসীনতা, বিদ্যালয়ের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য উপকরণ সংকট, শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের বিস্কুট বাড়িতে নিয়ে যাওয়াসহ আরও অনেক অভিযোগ তুলে ধরেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান-শিক্ষিকার সহ সাতজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেন। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর স্কুলের না আসায় আমরা প্রত্যেক অভিভাবকদের বাড়িতে গিয়েছি। অভিভাবকদের দাবি, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বদলি না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে পাঠাবেন না তারা।
ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবক রেজাউনুল হক বাবু বলেন, একজন অভিভাবককে জুতা দিয়ে পেটানো মানে সব অভিভাবককে জুতা দিয়ে পেটানো। তাই আমরা লজ্জিত হয়ে ওই বিদ্যালয়ে কোনো বাচ্চাকে পাঠাচ্ছি না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদলি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাবো না। এদিকে আমাদের নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছেন ওই প্রধান শিক্ষক।
এ বিষয়ে পশ্চিম সারডুবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার ছবি বলেন, স্কুলের কোনো শিক্ষার্থী না আসায় আমরা প্রত্যেক অভিভাবকদের বাসায় গিয়েছি। এ বিষয়ে আমরা আগামীকাল মঙ্গলবার অভিভাবক সমাবেশ ডেকেছিল। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমি ওই এলাকার ১১ জনের নামে থানায় একটি অভিযোগ করেছি। জুতা দিয়ে পেটানো ঘটনাটি অসত্য।
হাতীবান্ধা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি জেনেছি সমাধানের জন্য এক সহকারী শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।
লালমনিরহাট জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম নবী জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসছে না বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। এ বিষয়ে আমাকে কেউ কিছুই জানায়নি। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্রঃ ইত্তেফাক











