Home বাংলাদেশ সারাদেশে ১০০টি সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সারাদেশে ১০০টি সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

154
0
১০০টি সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

যান চলাচলের জন্য সারাদেশে ১০০টি সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুগুলো উদ্বোধনের পর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

সোমবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একসঙ্গে নবনির্মিত (১০০টি সেতু) সেতুগুলোর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

১০০টি সেতুর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ১৭টি, বরিশাল বিভাগে ১৪টি, ময়মনসিংহে ছয়টি, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী ও রংপুরে পাঁচটি করে, ঢাকায় দুটি ও কুমিল্লায় একটি রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের। আমরা দেশের উন্নয়নের জন্য রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছি। সেই লক্ষ্যে আজ ১০০ সেতুর উদ্বোধন করা হলো।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রভাব অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে, যেখানে যেখানে ডেঙ্গুর প্রভাব দেখা যাচ্ছে, সেখানে নিজেদের সতর্ক থাকতে হবে। মশারি ব্যবহার করতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে। মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো আস্তে আস্তে ধ্বংস করে দিতে হবে এবং নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যা করার সেটা আমরা করব, আমরা আছি আপনাদের পাশে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে খালি জমি আছে সেখানে যত বেশি পারবেন উৎপাদন করবেন। হাঁস মুরগি ভেড়া, যা কিছু পান পালন করতে হবে। অর্থাৎ নিজেদের উপার্জন নিজেদের করতে হবে। যাতে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে, তার ধাক্কা যেন বাংলাদেশে খুব বেশি ক্ষতি করতে না পারে। আঘাতটা লাগবে। কারণ পৃথিবী এখন গ্লোবাল ভিলেজ। একটা জায়গায় যদি এমন হয় তাহলে তার অভিঘাতটা বাংলাদেশেও আসে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতে খুবই সাশ্রয়ী হতে হবে। কোনো প্রকার অপচয় করা যাবে না। উৎপাদন বাড়িয়ে আন্তর্জাতিকভাবে যে খাদ্যের সমস্যা দেখা দিচ্ছে; নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে, সেই সমস্যা থেকে বাংলাদেশের মানুষ যেন মুক্ত থাকে সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা। প্রতিটা পরিবারকে তাদের নিজেদেরও সেই চেষ্টা করতে হবে। উন্নয়নের যে ধারাটা আমরা সৃষ্টি করেছি সেটা যেন অব্যাহত থাকে। উৎপাদন বাড়ান, নিজেরা সাশ্রয়ী হন, নিরাপদ থাকেন।

১০০টি সেতু

প্রায় ৮৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব সেতুর মধ্যে সবচেয়ে বড় সেতু সুনামগঞ্জের রানীগঞ্জ সেতু। এর দৈর্ঘ্য ৭০২ মিটার। বাকি সেতুগুলোর মধ্যে ৮টি সেতুর দৈর্ঘ্য ১০১ মিটার করে, ২০টি সেতুর দৈর্ঘ্য ৫১ থেকে ১০০ মিটার এবং ৭২টির সেতুর দৈর্ঘ্য ১৬ থেকে ৫০ মিটার। এ ১০০টি সেতুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সেতু খাগড়াছড়ি জেলায়, এখানে মোট ৪২টি সেতু নির্মাণ করা হয়। এরপরের অবস্থানে রয়েছে সুনামগঞ্জ, এখানে মোট ১৭টি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুর জেলায় ৪টি করে সেতু; রাজবাড়ী ও নেত্রকোনা জেলায় ৩টি করে; মানিকগঞ্জ, শেরপুর, পটুয়াখালী, বগুড়া ও চট্টগ্রাম জেলায় ২টি করে সেতু উদ্বোধন করা হয়।

এ ছাড়া এর বাইরে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পাবনা, নাটোর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নোয়াখালী ও বান্দরবান জেলায় একটি করে সেতু উদ্বোধন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ডিজিটাল হয়েছে। দেশের পার্বত্য অঞ্চল বিশেষ করে চট্টগ্রামে মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিকমতো পাওয়া যেত না, সেখানে আমরা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা করেছি। এ জন্য বিভিন্ন জেলা যুক্ত করে আজ একসঙ্গে ১০০ সেতুর উদ্বোধন করতে পারছি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির গণভবন প্রান্তে সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। সেতুগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী। অনুষ্ঠানে সেতুগুলোর ওপরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সূত্রঃ ইত্তেফাক