রংপুরে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছা মসজিদের আদায়কৃত টাকার হিসেব নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে নাজমুল হক (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হারাগাছা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানটারি সারাই জুম্মাপড়া জামে মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মসজিদের কমিটি নিয়ে দুপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে রেষারেষি চলছিল।
মসজিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন কমিটির সদস্যরা মুসল্লিসহ স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছিলেন। এর মধ্যে চাঁদার ২০ শতাংশ টাকা আদায়কারীরা নিতেন। এই ২০ শতাংশ টাকা নেয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর নতুন কমিটির সদস্য আব্দুল বারী ভেল্লুর (৫০) সঙ্গে পুরাতন কমিটির সদস্য নুর আলমের ভাই দয়ালের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে মাগরিবের নামাজ শেষে আবার দুপক্ষে কথাকাটাকাটি হয়। এসময় সাধারণ মুসল্লিরা তাদের শান্ত করেন। পরে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভেল্লুর দুই ছেলে রিপন ও লিয়নসহ কয়েকজন মিলে দয়াল ও তার পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালায়।
এতে দুপক্ষের সংঘর্ষে দয়ালের ভগ্নিপতি হারাগাছ পৌরসভার সৎবাজার এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে নাজমুল হকসহ (৪৫) নূর আলম ও দয়াল আহত হন। পরে নাজমুল ও দয়ালকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান নাজমুল।
এ ছাড়া আহত নূর আলমকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে খবর পেয়ে রংপুুুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ভেল্লু, তার স্ত্রী স্বপ্না এবং দুই ছেলে রিপন এবং লিয়নকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
সংশ্লিষ্ট ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, নিহত নাজমুলের বাড়ি সৎবাজার হলেও তিনি চেয়ারম্যানটারী এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
হারাগাছ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সূত্রঃ দেশ রুপান্তর







