চায়ের কাপে দিচ্ছি চুমুক
সন্ধ্যাবেলায় বসে,
আকাশ থেকে একটা তারা
পড়ল হঠাৎ খসে!

পড়ল সোজা নাক বরাবর
বাড়ির ভীষণ কাছে,
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা
ঝাঁকড়া ডালিম গাছে,
গাছের ডালে আটকে থাকা
নীলচে সবুজ আলো,
দেখতে পেয়ে লাগল আমার
অন্যরকম ভালো।
সেই আলোটার দরজা খুলে
একটা ছোট মেয়ে,
মিষ্টি করে হাসল চোখে
দেখতে আমায় পেয়ে।
ভাবছি আমি, স্বপ্ন এটা–
তেমন কিছুই হবে,
তারার ভেতর মানুষ থাকে,
কে শুনেছে কবে?
গাছের ধারে জংলামতো
চোরকাঁটা আর ঝোপে,
ঘরবসতি বানিয়ে আছে
গিরগিটি-সাপখোপে।
লাফিয়ে নেমে ঝোপের কোণে
সেই খুকিটা দাঁড়ায়,
ছোট্ট কোমল দু-হাত তুলে
আমার দিকে বাড়ায়।
বলছি আমি, সাবধানে খুব
ফেলবে দেখে পা-টা,
বলেই আমি নিজেই দিলাম
খুকির দিকে হাঁটা।
ছোট্ট মানুষ, হয় যদি তার
একটা বিপদ কিছু?
দৌড়ে গেলাম তারার আলোয়
খুকির পিছু পিছু।
হাসল খুকি, ভয় পেয়ো না…
কিছুই হবে না তো–
তোমায় একটা জিনিস দেব
হাতটা তোমার পাতো!
অবাক হয়ে হাত পেতেছি,
হাতের ওপর রাখা–
একটা রঙিন কাগজ জুড়ে
নানান ছবি আঁকা!
বলল, মনে করতে পারো?
তুমিই এসব এঁকে
পুতুল খেলার বাক্সটাতে
লুকিয়ে যেতে রেখে!
অবাক ভীষণ ভাবছি আমি
এই কি ছোটবেলার
হারিয়ে যাওয়া বন্ধু আমার
সঙ্গী ছিল খেলার?
কোথায় ছিলে আজ এতদিন?
কেমন করে এলে?
হাসল মেয়ে, এলাম নিতে
সঙ্গে তোমায়, ছেলে!
তখন ছিল আমার সময়
তোমার সময় আজ,
নেই বাকি আর এই ভুবনে
তোমার কোনো কাজ!
যেদেশ থেকে কেউ ফেরে না,
সেই সে অচিনপুরে,
আমরা এবার দুজন মিলে
হারিয়ে যাব দূরে!
হাসছি মৃদুমন্দ, মনে
পড়ছে স্মৃতি কত…
মৃত্যু যদি হয় এমনই,
নয় বেদনার তত!
হারিয়ে যাওয়া মানুষ যদি
আবার খুঁজে পাই,
হাসতে হাসতে ভাসতে ভাসতে
তারার দেশে যাই।
ছড়া- মৃদুল আহমেদ







