বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানকে নাশকতার চারটি পৃথক মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব মামলায় তিনি পূর্বে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন মামুন হাসান। তবে শুনানি শেষে ঢাকার চারটি পৃথক আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য
আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান,
“আজ মামুন হাসান আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। আমরা শিগগিরই উচ্চ আদালতে আপিল করবো। আশা করছি, তিনি দ্রুত জামিনে মুক্তি পাবেন।”
তিনি আরও বলেন,
“মামুন হাসান রাজপথ থেকে উঠে আসা একজন সংগ্রামী নেতা। একজন নেতার যে গুণাবলী থাকা প্রয়োজন, তার মধ্যে সেগুলো রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২৮৬টি মামলা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এসব মিথ্যা মামলা ও সাজা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে তিনি ঢাকা-১৫ আসনের কাণ্ডারী হবেন। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।”
চার মামলায় সাজা: এক নজরে
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর মিরপুর মডেল থানার দ্রুত বিচার আইনের একটি মামলায় মামুন হাসানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের সাজা দেওয়া হয়।
একই দিনে মিরপুর থানার আরেকটি মামলায়ও সমান দণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর ১২ নভেম্বর ২০২৩ মিরপুর থানার আরেক মামলায় তাকে পৃথক দুই ধারায় ২ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ২ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১ মাসের সাজা দেওয়া হয়।
এছাড়া, ২৬ অক্টোবর ২০২৩ দায়ের হওয়া অপর এক মামলায় তিনি ১ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৩ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১ মাসের সাজা পান।
আদালতে উত্তেজনা, নেতাকর্মীদের স্লোগান
শুনানিতে মামুন হাসানের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং কামরুজ্জামান সুমন উপস্থিত ছিলেন।
এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামুন হাসানের শতাধিক নেতাকর্মী। তারা আদালতপাড়ায় বিভিন্ন স্লোগান দেন। তবে মামুন হাসান নিজেই নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন:
“আমি বারবার বলছি, পুলিশকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দিন। তাদের কাজে কোনও বাধা দেবেন না। অন্যায় রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছি। ইনশাআল্লাহ ন্যায়বিচার পাবো।”
অ্যাম্বুলেন্সে করে কেরানীগঞ্জ কারাগারে
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মামুন হাসানকে একটি ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দিতে থাকেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মামুন হাসানের জামিন নামঞ্জুর এবং কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সরকার তাকে টার্গেট করেছে”।










