Home গদ্য-পদ্য জেসমীন আক্তারের লেখা “ঋণ”

জেসমীন আক্তারের লেখা “ঋণ”

216
0
জেসমীন আক্তারের লেখা “ঋণ”
এই যে রাত ঘুম শেষে সূর্যের কচি আভা জানালার পর্দা ভেদে ঘরের মধ্যে আলো ছায়ার আঁকিবুঁকি খেলার স্পর্শ চোখে এসে পরায় উঠে বসে, সামনে রাখা বোতলের পানি ঢেলে গলায় আদ্রতা এনে সাথে থাকা সঙ্গীর ঘুমন্ত নিঃশ্বাসের প্রগাঢ় আওয়াজ , বৈদ্যুতিক পাখার বাড়াবাড়ি রকমের আওয়াজকে ছাপিয়ে বাইরের হাজার রকমের পাখির আওয়াজকে ভালোবেসেই মোবাইলটা হাতে নিলাম কিছু লিখবো বলে, এটাই আমি।
স্ক্রিনের অক্ষর অস্পষ্ট, চশমাটা টেনে চোখে চাপিয়ে কিছু না লিখতে পারার ব্যর্থতায় চুপচাপ বসে থাকায় মাথার মধ্যে গিজগিজ করা শব্দ তরঙ্গের ঝলকানিতে ঝিমাই আমি।
সূর্যের তেজ বাড়ার সাথে সাথেই শুরু হবে মিনিট সেকেন্ডের হিসেব,ইঞ্চি ইঞ্চি পা ফেলার ছন্দ,নিয়ম নীতির দারুণ রকমের শৃঙ্খল, এটাই রোজনামচা আমার।
ইদানীং এই আমিটা খুব বেশিই বিদ্রোহ শুরু করেছে।
দৈনিক রোজনামচা কিংবা জীবন সাঁতারে হাপিয়ে উঠছে, না কি মেনে নেওয়ার দূর্বল ক্ষমতাকে হারিয়ে আরও সবল হয়ে উঠছে,কিংবা হাত পায়ের অসারতা চির যৌবন আমিটার সাথে ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছেনা, কি জানি কে জানে!
হাত পা ছুঁড়ে সাঁতরে জীবন তীর পাবার জন্য সমস্ত শক্তি দিয়ে দূর্বার গতিতে ছোটার সময় সামনে থাকা কচুরিপানা মুঠো ভর্তি করে ধরে থেকে একটু বিশ্রাম নেওয়া,
ফের ছুটে কোন ভাসমান গাছের গুড়ি ধরে খানিক জিরোনো,নয়তো ভেড়ানো ভাঙা কোনো নৌকোর গলুইকে অবলম্বন করে একটু দম নেওয়া।
কখনো ডুব সাঁতারে ভালোবাসার কোনো অদৃশ্য হাত ধরে একটু বেশিই এগিয়ে যাওয়া, সূর্যের উত্তাপ থেকে বাঁচার জন্য।
কতবার তলিয়ে গিয়ে আবার ভেসে ওঠা,আবার ছুটে চলা তীর খুঁজে পাবার আশায়।
আমার এই আমিটা বড্ড অভিমানী হয়ে উঠেছে, এখন আর কোলাহলময় তীর চায় না,জীবন নদীর বুকে নতুন চর চায়।
যেখানে থাকবে পলিমাটির গড়াগড়ি, যার মধ্যে পা পড়লেই নিজস্ব পদচিহ্ন স্পষ্ট থাকবে।
নরম রোদের আলুনি আদুরে উষ্ণতা নিয়ে,
পুড়িয়ে খাটি হবে দুপুরের উত্তাপে।
গড়িয়ে যাওয়া সূর্যের সাথে কিছুটা খেলে নেবে গঙ্গা ফড়িং কিংবা নানা রঙের ফুল প্রজাপতির সাথে।
নয়তো একটু পা ভিজেয়ে নেবে চরের পাড়ে বসে,নদীর সাথে মিতালি করে।
তখনও কি জীবনের হিসেবে ভাসমান, তলিয়ে থাকা ঋণ, অপারগতা, ব্যর্থতা,অপূর্ণতা গুলো সামনে এসে স্থির থাকবে! বৃদ্ধাংগুলি দেখাবে!
কিন্তু আমার আমিটা বিশ্বাস করে কোনো খড়কুটো কিংবা জলজ উদ্ভিদ নয়, আস্ত বটবৃক্ষের ছায়া থাকবে,যার নির্মল অক্সিজেন প্রাণ ভরে নিয়ে জীবনের ঋণ চুকানো শেষ করবে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই।
লেখক- জেসমীন আক্তার