Home বাংলাদেশ কুষ্টিয়ায় স্কুল শিক্ষিকা খুন, আটক হত্যাকারী তারই ভাইয়ের ছেলে

কুষ্টিয়ায় স্কুল শিক্ষিকা খুন, আটক হত্যাকারী তারই ভাইয়ের ছেলে

115
0
কুষ্টিয়ায় স্কুল শিক্ষিকা

কুষ্টিয়ায় জিলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা রোকশানা খানম রুনাকে খুন করেছেন তারই ভাইয়ের ছেলে নওরোজ কবির নিশাত (২৪)। আপন ফুফুকে শিলপাটা দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে বলে নিশাত পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আটক করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় স্কুল শিক্ষিকা খুনের ঘটনায় সোমবার সকালে তাকে আটক করে পুলিশ। নিহত রোকশানা খানম কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ইংরেজি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা ছিলেন। তার স্বামী খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান এলজিইডি চৌগাছার হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত।

পুলিশ জানায়- নিজ বাড়িতে এক স্কুল শিক্ষিকাকে কুপিয়ে হত্যার খবর পেয়ে সোমবার বেলা ১১টার দিকে শহরের হাউজিং ডি ব্লকের ২৮৫ নম্বর বাড়ি থেকে রোকশানা খানম রুনা (৫২) নামে ওই স্কুল শিক্ষিকার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ছয় তলাবিশিষ্ট বাড়িটি ওই শিক্ষিকার নিজের। নিঃসন্তান ওই শিক্ষিকা দ্বিতীয় তলায় একাই বসবাস করতেন। বাসার চতুর্থ তলায় থাকতো শিক্ষিকার মৃত ভাই এ কে এম নূরে আসলাম টিপুর পরিবার। ঘাতক নওরোজ কবির নিশাত তারই ছোট ছেলে।

নিশাত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফুপু রোকশানা খানমকে ডাকতে গিয়ে দেখেন দরজা ভেতর থেকে লক করা। অনেক ডাকাডাকি করার পরও দরজা না খোলায় সে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করে বিষয়টি জানালে পুলিশ তাদের দরজা ভেঙে ফেলার জন্য বলে। কয়েকজন মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা দেখতে পান শয়নকক্ষের বিছানার ওপর কাত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তার ফুপুর দেহ পড়ে আছে। মাথায় গভীর জখমের চিহ্ন। ওই ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়-চোপড়, ড্রয়ার সব কিছু ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় রয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ, র‌্যাব, পিবিআই, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খাঁন জানান, শিক্ষিকার ভাইয়ের ছেলে নিশাতের আচরণে আমাদের কিছুটা সন্দেহ হয়। এ জন্য তাকে পুলিশি হেফাজতে আনা হয়।

সেখানে সে হত্যার কথা স্বীকার করে পুলিশকে জানায়, ফুফু তাকে শাসন করায় নিজে শিলপুতা দিয়ে শিক্ষিকার মাথায় আঘাত করলে মারা যায়। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নিশাত দোতলার বারান্দা দিয়ে কৌশলে নেমে পড়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা পেল না নিশাত।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এফতেখাইরুল জানান, রোকশানা খানম আমাদের স্কুলের একজন সিনিয়র শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি সকলের প্রিয় ছিলেন। কারো সাথে কোনো সময় মনোমালিন্য দেখিনি। তার শত্রু থাকবে এটা কেউ কখনো ভাবেনি। এখন শুনলাম তার ভাতিজা তাকে হত্যা করেছে।

স্থানীয়রা জানায়, ঘাতক নিশাত ছিল অন লাইন জুয়ারী। লেখাপড়ায় কোন রকমের এসএসসির গণ্ডি পার করে। কিছুদিন আগে সে তার ফুপুর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ব্যাংক থেকে ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছিল। এছাড়া জোরপূর্বক কিছু দিন আগে একটি মোটর সাইকেল কিনেছে।নিঃসন্তান স্কুল শিক্ষিকা নিজের মায়া ও স্নেহে নিশাতকে বড় করেছিল বলে জানা যায়।

এদিকে সোমবার সকালে কালেক্টরেট চত্বরে জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রিয় শিক্ষকের হত্যারকারীর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করে এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

সূত্রঃ নয়াদিগন্ত