Home লাইফ স্টাইল শারীরিক ফিটনেস এর গুরুত্বপূর্ণ টিপস

শারীরিক ফিটনেস এর গুরুত্বপূর্ণ টিপস

327
0

বর্তমানে ফিটনেস কে থাকতে না চায় ,কিন্তু অলসতার কারনে সেটা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনা। তবে শারীরিক ফিটনেস থাকা এমন কোন কঠিন বিষয় নয়। একটু প্রচেষ্টা এবং ধৈর্য থাকলে প্রত্যেকেই ফিটনেস থাকতে পারবেন।

ফিটনেস থাকতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হতে হবে এবং স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। ফিটনেস  একদিকে যেমন সৌন্দর্যের প্রতীক অপর দিকে শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে খুবই সহায়ক।কারণ শারীরিক ভাবে ফিট না থাকলে ছোট-বড় নানা রকমের রোগ ব্যাধি থেকে শুরু করে মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। মেদ বহুল স্থুল দেহ কখনোই সুস্থতার পরিচয় বহন করে না। তাই সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে শারীরিক ভাবে ফিটনেস থাকার কোনো বিকল্প নেই। তবে ছেলে মেয়ে প্রত্যেকেরই ফিটনেস থাকা অবশ্যক।

ফিটনেস থাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো যা সুস্থ শরীর ও মনের জন্য অপরিহার্য-

১) স্বাস্থ্যকর ও ফিট থাকতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শরীরচর্চা। যারা সপ্তাহে তিনবারের বেশি শরীরচর্চা করেন তারা ভালো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেন। এর জন্য, আপনি নাচ, যোগব্যায়াম, অ্যারোবিক্স এবং দৌড়াদৌড়ি করতে পারেন। সকালে ২০ মিনিট মর্নিংওয়াক করুন।  দৈনিক ১৫ মিনিট বাইসাইকেল চালানোর অভ্যাস করুন। লিফটে না উঠে সিঁড়ি বেঁয়ে উপরে উঠুন। ফোনে কথা বলুন হেঁটে হেঁটে। গান ছেড়ে মন খুলে নাচুন মিনিট পনেরো। বসে থাকার অভ্যাসটা বাদ দিয়ে দিন।

২) বর্তমান পরিস্থিতিতে সময়ের বড়ো অভাব। ফলে ঘুমের সময় কাটছাঁট কম বেশি সকলেরই হয়। তবে একটা কথা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেমালুম আমরা ভুলে যাই যে, শরীর একটি যন্ত্রের মতো। তাই তাকে যেমন কাজ করানো যায়, তেমনই দরকার তার বিশ্রামও। তার থেকেও বেশি ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না। বিশ্রাম দেয় মাথাকেও। ফলে এই বিশ্রাম শরীরের জন্য অপরিহার্য একটি বিষয়। তাই প্রত্যেক মানুষের প্রতিদিন রাতে কম পক্ষে আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানো আবশ্যক।

কারণ তা না হলে ঘুমের ঘাটতি দেখা যায়। শরীরকে দুর্বল করে। তাই পরিমাণ মতো ঘুমলে শরীর সার্বিক ভাবে বিশ্রাম পায়, নতুন উদ্যম গড়ে ওঠে, ক্লান্তি বোধ দূর হয়। পাশাপাশি সব ঠিক থাকলে শরীরে অসুখের উপদ্রবও কম হয়।এক্সেটার ইউনিভার্সিটির স্পোর্ট অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক ডা. গেভিন বাকিংহামের মতে, ঘুম কম হলে মানুষের কগনিটিভ ফাংশন বা নতুন জিনিস শেখার ক্ষমতা কমে যায়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও কমে যায়, মনে দ্বিধা দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।

৩) প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকি। সে খাবারের মধ্যে ভিটামিন আছে কিনা কিংবা কতটুকু আছে তা আমরা খেয়াল করি না। যার কারণে আমাদের শরীর অসুস্থ হতে পারে। শরীরের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে এবং প্রতিদিন শাকসবজি খেতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন আপেল আঙ্গুর বেদানা কমলা আরো অনেক ফলমূল আছে সেগুলো খেতে হবে। সিজনের সময় অনেক সিজনাল ফল থাকে যেগুলো মধ্যে ভিটামিন এ বি সি ডি আরো অনেক ভিটামিন থাকে যেগুলো শরীরের জন্য অনেক উপকারী সেগুলো খেতে হবে।

 

৪) প্রত্যেকদিন সকালে আপনার বয়স অনুসারে ধ্যানে বসুন। এতে মানসিক এবং শারীরিক তৃপ্তি উভয়ই আসবে। মন শান্ত হবে এবং শরীরের কাজ করার ক্ষমতা অনেক গুন বেড়ে যাবে।

৫) সুস্থ থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর ডায়েট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দিনে কমপক্ষে তিনটি স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার খান। সর্বদা রাতের খাবার হালকা করুন। প্রচুর ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রোটিন ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করুন। ফ্যাট বা তেলযুক্ত যে কোনো খাবার খাওয়ার পরই বরফ শীতল পানি বা পানীয় পান করবেন না। ঠাণ্ডা কিছু খেতেই হলে ৩০ মিনিট পর খান। খাবার খান সময় নিয়ে, ভালোমতো চিবিয়ে খান।

৬) আবেরিস্টওয়াইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক ডা. রিস থেচারের মতে, জিম যাওয়া সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে বাড়িতে যদি পোষ্য কুকুর থাকে তা হলে খুবই উপকার হয়। কারণ হিসাবে তিনি বলছেন, কুকুরকে যদি দিনে দু’বার অন্তত ৩০ মিনিট করে হাঁটাতে হয় তা হলে বাধ্য হয়েই নিজেকেও হাঁটতে হবে ওই সময়টা। ফলে নিজের জন্য আলাদা করে সময় বের করতে না পারা বা কোনো কোনো দিন হাঁটা বন্ধ যাওয়ার আর ভয় থাকে না। এ ভাবেই রোজকার হাঁটার কাজটা হয়ে যায়।

৭) প্রতিদিন নিজের কাজ নিজে করেন তাহলে দেখবেন শরীর ভালো থাকবে। আর যদি আপনার কাজ অন্যকে দিয়ে করানো আর আপনি বসে থাকেন তাহলে আপনি দিন দিন অলস হয়ে যাবেন। আপনার শরীরে অসংখ্য রোগব্যাধি বাসা বাঁধবে সেইসাথে আপনি অসুস্থ হয়ে যাবেন। আর যদি নিজের কাজ নিজে করেন তাহলে আপনার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়া করবে শরীরের ব্যায়াম হবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে সেই সাথে শরীর মন সুস্থ থাকবে।সারাজীবন সুস্থ থাকার উপায়

৮) আমাদের শরীরকে ভালো রাখতে গেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তা না হলে আপনি যতো কিছুই করেন না কেন শরীর ভালো থাকবে না। কি খেলে শরীর খারাপ হবে কি খেলে শরীর ভালো থাকবে কি করলে শরীর খারাপ হবে আর কি করলে শরীর ভালো থাকবে এসব বিষয় ভাবনাকে মেনে চলতে হবে। মাসে অন্তত একবার হলেও শরীরের চেকআপ করা ভালো। তাহলে আপনি আপনার শরীরের কন্ডিশন কেমন বুঝতে পারবেন। সবশেষে আমরা বলতে পারি যে শরীরকে ভালো রাখার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা অত্যন্ত জরুরী।

৯) হাসি একটি খুব ভালো ব্যায়াম বা ওষুধ বলা যেতে পারে শরীর ও মনের সুস্বাস্থ্যের জন্য। লোক মুখে ফেরে মন খুলে জোড়ে জোড়ে হাসলে হৃদয় ভালো থাকে।

ডাঃ জেমস গিল বলছেন, মানুষের উচিত খুশি থাকার চেষ্টা করা। তা হলেই সুস্থ থাকবে শরীরও। তার জন্য তিনি বেশি বেশি করে হাসার পরামর্শ দিয়েছেন।

১০) শরীরের পাশাপাশি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আপনার সমান যত্ন নেওয়া উচিত। আপনি যত মানসিকভাবে সুস্থ থাকবেন শারীরিকভাবে আপনি ততই ফিট থাকবেন। আপনার আবেগের উপর ভালো নিয়ন্ত্রণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

–নিউজ ডেস্ক