ভারতের উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ ধাম থেকে গুপতকাশীর পথে আসার সময় গৌরিকুণ্ডের জঙ্গলে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে।
আর্যন অ্যাভিয়েশনের এই হেলিকপ্টারে থাকা ৭ জন যাত্রীর সবাই, যার মধ্যে একজন শিশু এবং পাইলটও ছিলেন, ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
হেলিকপ্টারটি সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে গুপতকাশীর উদ্দেশে রওনা দেয় এবং কেদারনাথ থেকে যাত্রী তুলে ফেরার পথে খারাপ আবহাওয়ার কারণে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় কেদারনাথ উপত্যকায় আবহাওয়া ছিল অত্যন্ত খারাপ, যা এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: পাইলট রাজবীর, বিক্রম রাওয়াত, বিনোদ, তৃষ্ঠি সিং, রাজকুমা, শ্রদ্ধা এবং ১০ বছর বয়সী শিশু রাশি।
ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে নামে SDRF এবং স্থানীয় প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ শোক প্রকাশ করে জানান, “রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার অত্যন্ত দুঃখজনক খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকার্য চলছে।”
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “আজ সকালে আবারও এক বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনার খবর এলো, এবার উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ-গৌরিকুণ্ড-গুপতকাশী অঞ্চল থেকে। ৭ জনের মধ্যে একজন শিশু এবং পাইলট ছিলেন। সংবাদমাধ্যমে আশঙ্কাজনক খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যেকের জন্য প্রার্থনা রইল।”
ঘটনার পর UCADA ও DGCA যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে চারধাম হেলিকপ্টার পরিষেবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী ধামি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন, যারা হেলিকপ্টার পরিষেবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত বিষয়াবলি খতিয়ে দেখে নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা (SOP) তৈরি করবে।
সেই সঙ্গে পূর্ববর্তী দুর্ঘটনাগুলোর তদন্তে গঠিত কমিটিকে বর্তমান দুর্ঘটনার বিষয়েও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তীর্থযাত্রা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সেবায় হেলিকপ্টার পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই পরিষেবায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।
–নিউজ ডেস্ক










