গ্যাসের দাম

পাইপলাইনে গ্যাস ব্যবহারকারী গ্রাহকদের চুলার বিল বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে দেশের সব চেয়ে বড় গ্যাস বিতরণী সংস্থা তিতাস। এক চুলার ক্ষেত্রে ৩৯০ টাকা ও দুই চুলার ক্ষেত্রে ৫১৩ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব তিতাসের।

যদি তাদের প্রস্তাবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটর কমিশন (বিইআরসি) সায় দেয় তাহলে দুই চুলার মাসিক বিল হবে ১ হাজার ৫৯২ টাকা। আর এক চুলায় বিল হবে এক হাজার ৩৮০ টাকা।

তিতাসের দাবি, আবাসিক গ্রাহকরা যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করে তার চেয়ে কম টাকার বিল দিচ্ছে। এজন্য বিল বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বিইআরসিকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

বিইআরসি বলছে, বিতরণ সংস্থা যে কোনো সময় তাদের দাবি জানাতে পারে। কমিশন পরীক্ষা করেই এ বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।

বিইআরসিকে দেয়া এক চিঠিতে তিতাস অভিযোগ করেছে, বিইআরসি গত বছর সেপ্টেম্বরে গ্যাসের দাম নির্ধারণের সময় আবাসিক গ্রাহকদের ব্যবহার কম নির্ধারণ করায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তারা।

বর্তমানে রান্নার গ্যাসের জন্য দুই চুলার মাসিক বিল ১০৮০ টাকা এবং এক চুলার মাসিক বিল ৯৯০ টাকা করা হয়েছে। সবশেষ ২০২২ সালের ৫ জুন গ্যাসের দাম বাড়ানোর সময় নতুন এ বিল নির্ধারণ করা হয়। আগে যা ছিল যথাক্রমে ৯৭৫ ও ৯২৫ টাকা।

এরপর চলতি বছর ১৮ জানুয়ারি সরকারের নির্বাহী আদেশে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বাণিজ্যিক খাতে আবার গ্যাসের দাম বাড়ানো হলেও বাসাবাড়িতে বাড়ানো হয়নি। তখন প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১৯ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

তিতাস দাবি করেছে, আবাসিক গ্রাহকরা গড়ে একটি চুলায় ৯৭ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। যুক্তি হিসেবে চিঠিতে তিতাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত অক্টবর থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট ৬ মাসের গ্যাস ব্যবহারের পর্যালোচনা করে তারা এই হিসাব দাঁড় করিয়েছে।

তিতাস বলছে, অক্টোবরে ৫২ হাজার ২১১ চুলায় গ্যাস ব্যবহার হয়েছে ৫০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩৮ ঘনমিটার। এতে গড়ে একটি চুলায় গ্যাস ব্যবহার হয়েছে ৯৭ ঘনমিটার।

নভেম্বরে ৫৩ হাজার ৭৫৭ চুলার হিসাব করে বলা হচ্ছে, গড় ব্যবহার ছিল ৯৪ ঘনমিটার। ডিসেম্বরে ৫৩ হাজার ৪০০ চুলার হিসাব পর্যালোচনা করে তারা বলছে ওই মাসে একটি চুলা ৯৬ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেছে। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চে যথাক্রমে একটি চুলা গড়ে ১০৩, ১০৫ এবং ৮৬ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করছে।

কিন্তু বিইআরসি গত সেপ্টেম্বরে দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক চুলায় ৫৫ ঘনমিটার এবং দুই চুলায় ৬০ ঘনমিটার ব্যবহার ধরে দাম নির্ধারণ করে দেয়।

এজন্য তিতাস বলছে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মিটারবিহীন গ্রাহককের ব্যবহার এক চুলায় ৭৬ দশমিক ৬৫ ঘনমিটার এবং ৮৮ দশমিক ৪৪ ঘনমিটার পুনর্নিধারণ করতে অনুরোধ করেছে।

তবে তিতাসের মিটারবিহীন গ্যাসের চুলা ছাড়াও মিটারযুক্ত গ্যাসের চুলা রয়েছে। এর একটি চুলায় প্রতিমাসে কী পরিমান বিল আসে সেই হিসাব তিতাসের কাছেই রয়েছে। মিটারযুক্ত গ্রাহকরা কী পরিমাণ বিল দিচ্ছে তার কোনো পরিসংখ্যান এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য ড. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঠিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নয়। তিতাস তাদের চুলায় কী পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার হয় সে বিষয়ে একটি পর্যালোচনা দিয়েছে। এটি তাদের কথা। এ বিষয়ে আমরাও পর্যালোচনা করছি। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করতে হলে তার একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। কেউ যদি দাম বৃদ্ধি করতে চায় তাকে সেই প্রক্রিয়া অনুসরন করতে হবে। এক্ষেত্রে তিতাস সেটি করেনি।’

সূত্রঃ দৈনিক বাংলা