Home লাইফ স্টাইল “টিপ” নারীর সৌন্দর্যের মায়া

“টিপ” নারীর সৌন্দর্যের মায়া

309
0
মডেল- মাহবুবা রাখী

“তোমার কপালের লাল টিপ এর মায়ায় প্রতিনিয়ত পড়ে যাচ্ছি, তোমার চোখের মায়াবী চাহুনির কাছে প্রতিনিয়ত দুর্বল হচ্ছি, তোমার ঠোঁটের সেই মিষ্টি হাসির কাছে প্রতিবার হার মানছি.. বলবে কি তুমি কোন মায়াবী দেশের রাজকন্যা?”

টিপ নিয়ে এমন অনেক উপমা বা কবিতা আছে। আসলে কপালে টিপ, চোখে কাজল, লিপষ্টিক ও হাতে পাথরের আংটি পরা একজন রুপবতী যে কোন মানুষকে তার রুপের নেশায় ফেলতেই পারে।

এক সময় গায়ে হলুদ, পহেলা বৈশাখ কিংবা বিভিন্ন ধরনের বাঙালি অনুষ্ঠানেই কেবল তরুণীদের কপালে দেখা যেত অপেক্ষাকৃত বড় আকারে টিপ। সে রীতি ভেঙে দৈনন্দিন সাজের সঙ্গে বড় টিপ পরার প্রচলনটাও হয়েছে বেশ আগে। এখন সেই গোলাকার টিপই সেজে উঠছে নিত্য নতুন ঢঙে। কখনও কলকির নকশায় সেজে উঠছে টিপ, কখনও কপাল জুড়ে পাপড়ি মেলে দিচ্ছে রঙিন ফুল।

উপমহাদেশের টিপের ইতিহাস বেশ পুরানো। মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশের সঙ্গে সৌন্দর্য ভাবনার শুরু। কেবল নারী নয়, পুরুষেরাও প্রসাধন এবং সাজে যত্নশীল ছিল। এ অঞ্চলের পুরুষেরা লম্বা চুল রাখত। কোঁকড়ানো চুলে সুগন্ধি তেল মাখাত। তারা আকর্ষণীয় পুরুষ ছিল। পুরুষেরাও নখ রাঙাত।

এ সময় সৌন্দর্য সেবার উপকরণ তারা প্রকৃতি থেকে আহরণ করেছে। কখনো ফুল, কখনো পান, কখনো লাক্ষারস, কখনো হলুদের রঙ তারা প্রসাধনে ব্যবহার করেছে। আবির-সিঁদুর এসেছে। সেই প্রাচীনকাল থেকে নারীর কপালে, ঠোঁটে, আঁখিতে, সিঁথিতে রঙের সমাবেশ দেখা গেছে। এগুলো সংগ্রহ হয়েছে প্রকৃতি থেকে পাওয়া উপাদান থেকে। এটি একটি জনগোষ্ঠীর জীবনাভ্যাসের সাথে গড়ে উঠেছে। বাঙালির এ অভ্যাস তার হাজার বছরের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত।

মডেল- মাহবুবা রাখী

সাজের অংশ হিসেবে সৌখিন নারীরা লাক্ষারস অর্থাৎ লাল এক ধরনের তরল রঙ দিয়ে ঠোঁট রাঙাত। এ দেশে পারফিউম আসার আগে ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা ধুপ দিয়ে চুলে সুগন্ধ তৈরি করত। গোলাপের পাপড়ি বাহুমূলে রেখে সুগন্ধ তৈরি করত।

কেবল শাড়ি অথবা বাঙালি পোশাকের সঙ্গেই টিপ পরতে হবে এমন ধারণাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে পশ্চিমা পোশাকের সঙ্গেও অনেকে দিব্যি পরছেন টিপ। আবার খুব সাজগোজ করে তারপর টিপ পরতে হবে এমন ধারণা থেকেও বের হয়ে এসেছেন তরুণীরা। একটি সাদামাটা ফতুয়া ও এলোমেলো চুলের সঙ্গে কপালে চট করে বসিয়ে নিচ্ছেন আলপনা করা একটি বড় টিপ।

আবার টিপ ঠিক মতো পরছেন কিনা সেটার উপরও নির্ভর করে টিপের সৌন্দর্য। কপাল ছোট হলে অথবা ভ্রু জোড়া হলে বড় টিপ না পরারই ভালো। মাঝারি সাইজের গোল টিপ মানিয়ে যায় সব ধরনের মুখেই।

শাড়ি, চুড়ি, টিপে পরিপূর্ণ বাঙালি নারী। বাঙালি মেয়েরা টিপ পড়তে ভালবাসে, তাই তারা বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সাথে টিপ পরতে পছন্দ করে। শাড়ির সাথে মাঝারি বা বড় মখমলের গোল টিপের সেই সৌন্দর্যের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

  • কুমকুম: কুমকুম টিপের প্রচলন অনেক আগের রাজা-রানীদের কপালে শোভাবর্ধন করেই ক্ষান্ত হয়নি, এখনকার সাজের তালিকায়ও চলে এসেছে সেই ঐতিহাসিক টিপ।
  • পাথর: কপালে একটু ঝিলিকের জন্য লাগানো হয় পাথরের টিপ। তাও হতে পারে একরঙা অথবা কয়েকটি রঙের মিশ্রণে।
  • স্বাভাবিক টিপ : সাধারণ বড় গোল টিপ তো আছেই, এর ওপর লাগানো হচ্ছে পাথরের ছোট ঝুমকা।
  • আলপনা : যে শাড়িটি পরা হয়, তার ডিজাইনের সঙ্গে মিল রেখে টিপেও আঁকা হয় একই ডিজাইন। সে টিপ পরলেই তৈরি হয় ভিন্নতর সাজ।
  • দ্বিত্ব শুভ্রা মিশ্রণ : যারা একটু বেশি ফ্যাশন-সচেতন, তাদের জন্য দু-তিন মিশ্রণের টিপ পাবেন। আলপনা টিপের সঙ্গে পাথর মিলিয়ে অথবা সাধারণ টিপের আশপাশ দিয়েও এঁকে নেয়া যায় প্রয়োজন মতো।
  • দুই টিপ একসঙ্গে : দুটি রঙের টিপ একটির ওপর অন্যটি দিয়ে এই টিপ তৈরি হয় বা সাধারণ বড় একটি টিপের নিচে ছোট টিপ পরা যায়।
  • ছোট্ট একটা: ছোট্ট কালো রঙের টিপ চেহারায় ইনোসেন্ট লুক নিয়ে আসে।

পোশাক ও টিপ: টিপ সবচেয়ে বেশি মানানসই দেশীয় পোশাকের সঙ্গে। তবে চাইলে পশ্চিমা পোশাকের সঙ্গেও মানিয়ে নেয়া যায়। সুতি শাড়ির সঙ্গে টিপ খুব মানানসই। পাড় লাল রঙের টিপ বৈশাখ কিংবা পালা-পার্বণে মানায়। এ ছাড়া শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে টিপ পরা যায়। দাওয়াতের পোশাকের সঙ্গে অর্নামেন্টাল টিপ বেশি মানানসই। অন্যদিকে সারাদিনের ব্যস্ততায় সাধারণ টিপ ব্যবহার করাই ভালো।

কপাল ও টিপ: কপালের দিকটি খেয়াল করে টিপ পরা উচিত। যাদের কপাল আকারে ছোট, তাদের ছোট টিপ মানানসই। যাদের কপাল বড়, তারা বড় টিপ পরলে সুন্দর লাগবে। বড় দুলের সঙ্গে ছোট আকারের টিপ পরলে ভালো লাগবে। এ ছাড়া টিপের আঠার কারণে অনেক সময় র্যা শ দেখা দিতে পারে। টিপ খোলার পর বেবি অয়েল দিয়ে আঠা মুছে ফেললে এ ঝামেলার অবসান হবে।

চেহারার সঙ্গে টিপের ছাঁট:
১. গোল চেহারার অধিকারীরা লম্বা টিপ পরলে ভালো দেখাবে।
২. যাদের চেহারার ধাঁচ লম্বাটে, গোল টিপই হওয়া উচিত তাদের প্রথম পছন্দ।
৩. পানপাতা ও চারকোনা চেহারার সঙ্গে লম্বা টিপ মানানসই।