Home কোটা আন্দোলন টাকার অভাবে আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ ছাত্র তামিম চোখ হারানোর শঙ্কায়

টাকার অভাবে আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ ছাত্র তামিম চোখ হারানোর শঙ্কায়

283
0
গুলিবিদ্ধ ছাত্র তামিম চোখ হারানোর

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে চোখ হারাতে বসেছে গাজীপুরের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিম হোসেন। চোখ ও মাথায় গুলি থাকার যন্ত্রণায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার পরিবার এখন দিশাহারা।

এরইমধ্যে চিকিৎসা করাতে খরচ হয়ে গেছে ৪ লাখ টাকার উপরে। টাকার অভাবে অন্ধকার ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। তারা বলছেন, স্বৈরাচার তো দেশ ছেড়ে চলে গেছে, কিন্তু ছেলের চোখ ফিরে পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

গুলিবিদ্ধ শিশুটি শারীরিক ও মানসিক নানা যন্ত্রণায় রয়েছে। তার লেখাপড়াও ব্যাহত হওয়ার পথে। সুস্থ হয়ে দ্রুতই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সবাই। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আগে দেশের উত্তাল পরিস্থিতিতেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বড়দের সঙ্গে যোগ দেয় ১১ বছর বয়সী তামিম।

তামিম জানায়, গুলিতে বড় ভাই আবু সাঈদ মারা যাওয়ার প্রতিশোধ নিতে বড়দের সঙ্গে আন্দোলনে যেতে চায় সে। কিন্তু তার বাবা নিষেধ করে আন্দোলনে যেতে। তাই তিনি বাসার বারান্দার গ্রিলে তালা লাগিয়ে চলে যান কর্মস্থলে। রড আর হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে তামিম চলে যায় আন্দোলনে। যাওয়ার পর হোতাপাড়া এলাকায় জয়দেবপুর থানার সামনে পুলিশ গ্যাস ছোড়ে, গুলি করে। ছররা গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায়, রক্তাক্ত হয়। গুলি খেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকলে লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আর স্বাভাবিক হতে পারছে না সে। এখনো অনেক গুলি রয়েছে ভেতরে। লেখাপড়া, ঘুম, খাবার-দাবার কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না। চোখে, মাথায় ও শরীরে নানা যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটছে তার।

তামিমের বাবা মো. নূর উদ্দিন জানান, ৩রা আগস্ট আমার ছেলে একটা বাংলাদেশের পতাকা চেয়েছে। তাকে আমি কিনে দিয়ে পরদিন একাই বাসায় রেখে তালা দিয়ে কাজে চলে যাই। বিকালে একজন ফোন দিয়ে জানায় আপনার ছেলে তামিম গুলি খেয়ে পড়ে আছে। মাত্র ১৩ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন তিনি। পরিবারের লোকজনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়। গুলিবিদ্ধ ছেলের শুধুমাত্র চিকিৎসা সেবাটুকু পাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ছেলের চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয়ে গেছে ৪ লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। চোখ ব্যথা, মাথা ব্যথা ও ফলফলাদি খাওয়ানো এসব নিয়ে চিন্তিত। আগামীতে যে চিকিৎসা দেবেন কীভাবে সেই চিন্তায় তাকেও নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। হাসপাতালে আসা যাওয়া, ব্যবস্থাপনাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদিতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ও ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই তারা চাচ্ছেন সরকারি সহযোগিতা।

তামিমের মা মৌসুমী জানান, সরকারের কাছে আবেদন যে, ওর চোখটা যাতে ভালো করে দেয়। ওর ভবিষ্যৎটা যাতে অন্ধকার না হয়ে যায়। গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. মামুনুর রশীদ জানান, খোঁজখবর নিয়ে ও কাগজপত্র যাচাই করে ওই আন্দোলনে আহতদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে আহতরা সহযোগিতা পাবেন। গুলিবিদ্ধ তামিমের জন্যও ইতিমধ্যেই সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়েছে।

সূত্রঃ মানবজমিন