ইরানের মাটিতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক যৌথ হামলার পর উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ব রাজনীতি। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাত নিয়ে পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলো থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন—সব পক্ষই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
রাশিয়ার কঠোর সমালোচনা থেকে শুরু করে ইউরোপের সংযমের আহ্বান, বিশ্বনেতাদের কণ্ঠে এখন কেবলই অনিশ্চয়তার সুর।
রাশিয়ার কঠোর সমালোচনা: ‘যুক্তরাষ্ট্রের আসল চেহারা প্রকাশ’
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ এই হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “শান্তির দূত (যুক্তরাষ্ট্র) আবারও তার আসল চেহারা দেখিয়েছে। ইরানের সঙ্গে তাদের সকল আলোচনার নাটক ছিল কেবল একটি আড়াল মাত্র। বাস্তবে কেউ কোনো প্রকৃত সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়নি।”
স্পেনের প্রত্যাখ্যান: বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য হুমকি
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই একতরফা সামরিক পদক্ষেপকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর মতে, এই হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে এবং পৃথিবীকে একটি অনিশ্চিত ও প্রতিকূল বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান: নিষেধাজ্ঞা ও সংযম
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন আগের করা নিষেধাজ্ঞার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “ইউরোপীয়রা ইতিমধ্যে ইরানের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।” তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানান এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইতালি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিক্রিয়া
-
জর্জিয়া মেলোনি (ইতালি): ইতালির প্রধানমন্ত্রী ইরানের বেসামরিক জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। উত্তেজনা কমাতে তিনি আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
-
অ্যান্থনি আলবানিস (অস্ট্রেলিয়া): অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরানি জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেও ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এক নজরে বিশ্বনেতাদের অবস্থান:
| নেতা | দেশ/সংস্থা | মূল বক্তব্য |
| দিমিত্রি মেদভেদেভ | রাশিয়া | যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ছিল প্রতারণা ও আড়াল। |
| পেদ্রো সানচেজ | স্পেন | একতরফা সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান ও উদ্বেগ। |
| উরসুলা ভন ডার লিয়েন | ইইউ | আন্তর্জাতিক আইন মানা ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান। |
| অ্যান্থনি আলবানিস | অস্ট্রেলিয়া | নিপীড়নের বিরুদ্ধে সমর্থন কিন্তু পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। |
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।