ইরানের মাটিতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বেআইনি ও অবৈধ” বলে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
আজ মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি (NBC)-তে প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতি ও কর্মকর্তাদের অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করেন।
‘কর্মকর্তারা নিরাপদ, কমান্ডোদের মৃত্যু বড় ক্ষতি নয়’
সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “ইরানের প্রায় সব শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তা জীবিত, সম্পূর্ণ সুস্থ এবং বর্তমানে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন। হামলার ফলে প্রশাসনিক স্তরে কোনো বড় শূন্যতা তৈরি হয়নি।”
হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি খোলামেলাভাবে বলেন:
“আমরা হয়তো এক বা দুইজন কমান্ডারকে হারিয়েছি। তবে এটি আমাদের বিশাল সামরিক কাঠামোর জন্য কোনো বড় সমস্যা বা সংকট নয়। আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত মজবুত।”
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই যৌথ আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের ওপর এ ধরনের একতরফা হামলা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। আরাঘচি আরও জানান, ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
তেহরানের বর্তমান অবস্থান
বিশ্লেষকদের মতে, আরাঘচির এই বক্তব্য ইরানের উচ্চপর্যায়ের মনোবল অটুট থাকার একটি সংকেত। হামলার পরও কর্মকর্তাদের ‘নিরাপদ’ থাকার দাবি করে তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইন্টেলিজেন্স বা গোয়েন্দা ব্যর্থতাকেই ইঙ্গিত করেছেন।
এক নজরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মূল বার্তা:
-
নিরাপত্তা: শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো ক্ষতি হয়নি, তারা সুরক্ষিত।
-
অবৈধতা: হামলাটি আন্তর্জাতিক সকল নীতিমালার পরিপন্থি।
-
প্রতিরোধ: গুটিকতক কমান্ডার হারানো ইরানের অগ্রযাত্রায় বাধা হবে না।