জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শেষ দিন ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোসহ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আব্দুল মালেক। আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও পক্ষপাতিত্বের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন।
বিচার নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আব্দুল মালেক চিৎকার করে বলেন:
“মিথ্যা রায় দিয়েছে। যারা আগুন লাগিয়েছে তাদের ধরেনি। আমি গরিব মানুষ, গরিবের কেউ নাই, আমি টাকা দিতে পারিনি—তাই আদালত আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, যারা টাকা দিতে পেরেছে তাদের সাজা মাত্র সাত-আট বছর হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানে আলমের ওপর আক্রোশ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি আগুন দেইনি, গুলি করিনি। আগুন দিয়েছে কনস্টেবল মনির আর কাঠ দিয়েছে কনস্টেবল জুয়েল। অথচ এএসআই মনিরকে সাক্ষী বানানো হয়েছে এবং আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।”
ঘটনার বর্ণনায় মালেক
মালেকের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট বিকেল ৩টায় তিনি ডিউটি শেষ করে চলে গিয়েছিলেন, অথচ ঘটনা ঘটেছে বিকেল ৫টায়। তিনি রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হককেও এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত বলে অভিযুক্ত করেন। প্রতিক্রিয়ার এক পর্যায়ে আব্দুল মালেক ট্রাইব্যুনালের বাইরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরিবারের দাবি: ‘ভাই ঘটনাস্থলেই ছিলেন না’
মালেকের ভাই মোহাম্মদ গোলাম হোসেন জানান, ৫ আগস্ট বিকেলে তার ভাই কাইচ্ছাবাড়ি নামক স্থানে আহত অবস্থায় ছিলেন, সেখান থেকে তিনি তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল নিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নির্দোষ মালেককে চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট
আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আশুলিয়ার নৃশংস লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আব্দুল মালেক এই মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ জন আসামির মধ্যে অন্যতম।







