রংপুরে ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবসা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা এবং সপরিবারে গুলি করে হত্যার হুমকির অভিযোগে জেলা যুবদলের দুই শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এক জরুরি সিদ্ধান্তে তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করে।
ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা দখলের অভিযোগ
ঘটনার মূলে রয়েছে মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর হারুন অর রশিদের (কানা হারুন) দীর্ঘদিনের ক্যাবল ও ইন্টারনেট ব্যবসা। অভিযোগ উঠেছে, হারুন বর্তমানে কারাগারে থাকায় তাঁর এই লাভজনক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন জেলা যুবদলের দুই নেতা।
বহিষ্কৃতরা হলেন: ১. আকিবুল রহমান মনু — জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
২. তামজিদুর রশিদ গালিব — জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই এলাকার ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে ব্যবসাটি হস্তান্তরের চাপ দেন তাঁরা। রোববার বিকেলে মনু তাঁর অনুসারীদের নিয়ে ক্যাবল ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী ‘ক্যাবল ওয়ান’ অফিসে ঢুকে ল্যাপটপসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন এবং জোরপূর্বক নতুন ফিডার নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
“বউ-বাচ্চাসহ গুলি করে আসব”
এই ব্যবসা দখলচেষ্টার একটি অডিও-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে যুবদল নেতা মনুকে বলতে শোনা যায়, “আজকে বিকেলের মধ্যে যদি সমাধান (ব্যবসা হস্তান্তর) না করিস, তাহলে বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব।” ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সানজিদা ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই গালিব ও মনু তাঁদের বৈধ ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁরা বিভিন্নভাবে মারধর ও হত্যার ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
অভিযুক্তের দাবি ও ব্যবসা বন্ধ
অভিযোগ প্রসঙ্গে বহিষ্কৃত নেতা তামজিদুর রশিদ গালিব দাবি করেন, “২০১৫ সালে আমাকে জেলে পাঠিয়ে আমার ব্যবসা দখল করা হয়েছিল।” তবে ব্যবসার কোনো বৈধ নথি বা ডকুমেন্টস তিনি দেখাতে পারেননি। এই ঘটনার প্রতিবাদে রংপুরের সংশ্লিষ্ট এলাকার সব ক্যাবল সিগন্যাল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের কঠোর বার্তা
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসাথে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো নেতার ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় দল নেবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ঢাকা পোষ্ট







