ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমুজাগানের মিনাব সিটিতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একটি প্রাক-প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এখন পর্যন্ত ৫১ জন শিশু শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হামলার বিস্তারিত ও হতাহত
প্রাথমিকভাবে পাঁচজন এবং পরবর্তীতে ২৪ জন নিহতের খবর পাওয়া গেলেও, উদ্ধার অভিযান শেষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১-এ দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। হামলার সময় প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ক্লাসে অবস্থান করছিল। এই পৈশাচিক হামলায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ইরানের পাল্টা আঘাত ও প্রতিশোধ
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ আগ্রাসনের পর ইরান হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। দেশটির সেনাবাহিনী এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিশোধমূলক ব্যাপক হামলা শুরু করেছে। ইরানের ছোঁড়া মিসাইলগুলো ইতিমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে শুরু করেছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতির হাইলাইটস:
-
উপসাগরীয় দেশগুলোতে আঘাত: ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলায় আরব আমিরাতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
-
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর হুশিয়ারি: ইরান জানিয়েছে, এই হামলার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং আগ্রাসনকারীদের চরম মূল্য দিতে হবে।
-
আঞ্চলিক উত্তেজনা: হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বেসামরিক স্থাপনা এবং বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে এই সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতি এখন চরম উদ্বিগ্ন।
