মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং গতিবিধি জানানোর জন্য ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, হাজার হাজার মার্কিন সেনা এখন সামরিক ঘাঁটির বাইরে বিভিন্ন হোটেল ও ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে আত্মগোপন করে আছে।
মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ‘মানবঢাল’ ব্যবহারের অভিযোগ
আইআরজিসি-র বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ওয়াশিংটন নিজেদের সামরিক স্বার্থ রক্ষায় স্থানীয় আরব নাগরিকদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা সাধারণ মানুষের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় লুকিয়ে থেকে সম্ভাব্য ইরানি হামলা এড়ানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি-র প্রধান বার্তাগুলো:
- শনাক্তকরণ: আমেরিকানদের শনাক্ত করে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা এখন সময়ের দাবি।
- সতর্কবার্তা: কোনো হোটেল বা বাসাবাড়িতে মার্কিন সেনাদের আশ্রয় না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- নাগরিক নিরাপত্তা: সাধারণ মানুষকে মার্কিন সেনাদের অবস্থানের আশপাশ থেকে দূরে থাকার জন্য বলা হয়েছে, যাতে হামলার সময় কোনো বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি না হয়।
তথ্য পাঠাতে টেলিগ্রাম চ্যানেলের ব্যবহার
আইআরজিসি মার্কিন সেনাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের লুকিয়ে থাকার জায়গা সম্পর্কে তথ্য দেওয়াকে একটি ‘ইসলামী দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই তথ্যগুলো পাঠানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেল ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ বা ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে বলে বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রণক্ষেত্রের প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইরানের দাবি, তাদের বিধ্বংসী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়ে মার্কিন সেনারা এখন স্থায়ী ঘাঁটি ছেড়ে অস্থায়ী ও ব্যক্তিগত আবাসে আশ্রয় নিচ্ছে। এই ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ল বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।







