পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর স্মরণকালের ভয়াবহতম হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসি-র জনসংযোগ বিভাগের বরাত দিয়ে পার্স-টুডে জানিয়েছে, ৩৯তম এই হামলার জোয়ারে লক্ষ্যভুক্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলো প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
‘সত্য প্রতিশ্রুতি-৪’ এবং শহীদদের স্মরণ
আজ বুধবার ‘সত্য প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদায়ে সাদিক-৪’ শীর্ষক অভিযানের অংশ হিসেবে এই সিরিজ হামলা শুরু করা হয়। অভিযানটি শুরু হয় ‘হে আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)’ প্রতীকী শ্লোগানের মাধ্যমে। হামলার শুরুতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ চিফ অব স্টাফ আমির মুসাভিসহ সম্প্রতি শাহাদাত বরণকারী কমান্ডারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
বিবৃতি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা ‘শিশু-ঘাতক সন্ত্রাসী মার্কিন সেনা-ঘাঁটি’ গুঁড়িয়ে দিতে ইরান তার অত্যাধুনিক সব মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। হামলায় ব্যবহৃত প্রধান ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হলো:
- ক্বাদর (Qadr): একাধিক ওয়ারহেড-বিশিষ্ট শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র।
- খুররামশাহর (Khorramshahr): দূরপাল্লার ও বিধ্বংসী ক্ষমতার ক্ষেপণাস্ত্র।
- এমাদ (Emad): বিশেষ নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র।
ইসরায়েলে ১১ দিনের অচলাবস্থা ও আতঙ্ক
আইআরজিসি-র বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানের প্রভাবে অধিকৃত ফিলিস্তিন তথা ইসরায়েলজুড়ে নজিরবিহীন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ও সাইরেনের একটানা শব্দে সেখানে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অপরাধী ইহুদিবাদী চক্র গত ১১ দিন ধরে এক প্রকার ‘বন্দিত্ব’ বা অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রণক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই ৩৯তম হামলার জোয়ার প্রমাণ করছে যে, তারা কেবল প্রতিরক্ষা নয় বরং আক্রমণাত্মক কৌশলেও মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। বিশেষ করে একই সাথে একাধিক ওয়ারহেড-বিশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় পশ্চিমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো তা শনাক্ত বা ধ্বংস করতে ব্যর্থ হচ্ছে।







