আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আবুধাবি
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এবার সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে আঘাত হেনেছে ইরান।
আবুধাবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘বুরুজ পেট্রোকেমিক্যাল প্লান্টে’ ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় প্লান্টের ভেতরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে।
হামলার বিবরণ ও অগ্নিকাণ্ড
সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোরে ইরান থেকে ছোঁড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আবুধাবির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। আমিরাতের অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু হামলা মাঝ আকাশেই রুখে দিতে সক্ষম হলেও, ক্ষেপণাস্ত্রের বিধ্বংসী ধ্বংসাবশেষ সরাসরি বুরুজ পেট্রোকেমিক্যাল প্লান্টের ভেতরে গিয়ে পড়ে।
এর পরপরই সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি: থমকে গেছে রুয়াইস
হামলার পর বিশাল শিল্পনগরী রুয়াইসের আকাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ না হওয়া পর্যন্ত প্লান্টের সমস্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা
আমিরাতের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ধরনের হুমকি সফলভাবে প্রতিহত করেছে। মূলত ধ্বংসাবশেষ লোকালয়ে এবং প্লান্টে পড়ার কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও গাল্ফ নিউজ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
সম্প্রতি ইরানের নিজস্ব পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর তেহরান পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, আবুধাবির এই অর্থনৈতিক হৃদপিণ্ডে আঘাত করার মাধ্যমে ইরান তার সামরিক সক্ষমতার জানান দিল।
এই ঘটনার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমিরাত কর্তৃপক্ষ সাধারণ বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং শুধুমাত্র সরকারি তথ্য অনুসরণ করার জোর আহ্বান জানিয়েছে।







