আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
চলমান যুদ্ধে শহীদ হওয়া ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের অন্তিম বিদায় জানাতে রাজধানী তেহরানে নেমেছে মানুষের ঢল। আজ বুধবার তেহরানের ঐতিহাসিক ইনকিলাব স্কয়ার (Enqelab Square) থেকে এই বিশাল শোকযাত্রা শুরু হয়। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলার চরম হুমকির মধ্যেই লাখ লাখ সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসে প্রমাণ করেছেন— মৃত্যুকে ভয় পায় না ইরানি জাতি।
চিরবিদায় নিলেন যারা
পার্সটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজকের শোকযাত্রায় যাদের মরদেহ বহন করা হয়, তারা ইরানের প্রতিরক্ষা ও সামরিক শক্তির স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শহীদদের তালিকায় রয়েছেন:
- শহীদ সাইয়্যেদ আবদুর রহিম মুসাভি: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ।
- শহীদ মোহাম্মদ পাকপুর: ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) প্রধান কমান্ডার।
- শহীদ আলি শামখানি: দেশের প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব।
- শহীদ আজিজ নাসিরজাদে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
- শহীদ মোহাম্মদ শিরাজি: সর্বাধিনায়কের দপ্তরের সামরিক প্রধান।

বোমা হামলার আশঙ্কা তুচ্ছ করে মানুষের অংশগ্রহণ
চলমান যুদ্ধাবস্থায় শত্রুপক্ষের বিমান বা ড্রোন হামলার উচ্চ সতর্কতা জারি থাকা সত্ত্বেও তেহরানের জনগণ ঘরে বসে থাকেনি। ইনকিলাব স্কয়ার থেকে শুরু হওয়া এই শোকযাত্রা তেহরানের প্রধান সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষের হাতে ছিল শহীদদের ছবি এবং ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ ও ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ সম্বলিত ব্যানার।
‘ভয় দেখিয়ে ইরানিদের দমানো যাবে না’
শোকযাত্রায় উপস্থিত জনতা সমস্বরে জানিয়েছেন যে, তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো তাদের সাহসিকতা ও শাহাদাতের তামান্না। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “ভয় দেখিয়ে ইরানি জাতিকে তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। আমাদের কমান্ডারদের রক্ত বৃথা যাবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ সামরিক নেতাদের হারিয়ে ইরান সামরিকভাবে সাময়িক ধাক্কা খেলেও, এই শোকযাত্রা প্রমাণ করে যে দেশটির অভ্যন্তরীণ জনসমর্থন এবং সংহতি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।
সূত্র: পার্স টুডে







