Home আন্তর্জাতিক মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের বিধ্বংসী ড্রোন হামলা (ভিডিও)

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: কুয়েত বিমানবন্দরে ইরানের বিধ্বংসী ড্রোন হামলা (ভিডিও)

19
0
কুয়েত বিমানবন্দর হামলা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরানের দেওয়া হুঁশিয়ারি এবার বাস্তবে রূপ নিলো। বুধবার ভোরে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দফায় দফায় শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই হামলায় বিমানবন্দরের প্রধান জ্বালানি ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।

হামলার ভয়াবহতা ও অগ্নিকাণ্ড

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা উত্তেজনার পর ইরান এখন সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থানে। বুধবার স্থানীয় সময় ভোরবেলায় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একযোগে বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে কুয়েত বিমানবন্দরের ‘কাফকো ফুয়েল ডিপো’ লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। হামলার পরপরই বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। আগুনের লেলিহান শিখা কয়েকশ ফুট উঁচুতে উঠে যায় এবং কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় কুয়েতের আকাশ।

দেখুন ভিডিও—

ক্ষয়ক্ষতি ও ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ

কুয়েতি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই ড্রোন হামলায় বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যাত্রী টার্মিনালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কুয়েত বিমানবন্দরের সমস্ত ফ্লাইট অপারেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কেন এই হঠাৎ হামলা?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মুসলিম দেশগুলোর কাছ থেকে কার্যকর সহযোগিতা না পেয়ে ইরান এখন একাই লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছে। বিশেষ করে কিছু রাষ্ট্র ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রশাসনের পক্ষ নেওয়ায় তেহরান চরম ক্ষুব্ধ। কুয়েতের মতো কৌশলগত অবস্থানে হামলা চালিয়ে ইরান বিশ্বকে বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা এখন আর কেবল রক্ষণাত্মক নয়, বরং প্রয়োজনে যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে প্রস্তুত।

আঞ্চলিক প্রভাব ও শক্তিমত্তা

একই দিনে বাহরাইনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে গত সোমবারও দুবাইয়ের উপকূলে কুয়েতের তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘আল সালামি’-তে হামলা চালিয়ে ইরান তাদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল। ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরান এখন নিজস্ব শক্তিতে একের পর এক আঘাত হেনে চলেছে।

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

কুয়েত সরকার এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।