ঢাকার কেরাণীগঞ্জে গড়ে উঠেছে নকল ওষুধ তৈরির একটি বড় কারখানা। সেখানে তৈরি হচ্ছিল ভারতের পাঁচটি শীর্ষ কোম্পানির ওষুধের নকল। বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার ওষুধ থেকে শুরু করে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ—সবই তৈরি হতো এখানে।
বুধবার (১ এপ্রিল) এই কারখানায় অভিযান চালিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
অভিযানের বিবরণ
র্যাবের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেরাণীগঞ্জের ওই কারখানায় অভিযান চালায়। সেখানে ভারতীয় পাঁচটি কোম্পানির মোড়কে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে:
- বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ
- শিশুদের বিভিন্ন রোগের ওষুধ
- অ্যান্টিবায়োটিক ও পেইনকিলার
উদ্ধারকৃত ওষুধের মোড়কে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিএমডিএ) -এর অনুমোদনের স্টিকারও লাগানো ছিল, যা সম্পূর্ণ জাল বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা
র্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ জালিয়াতির মূল পরিকল্পনাকারী একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। তারা আসল ওষুধের পাশাপাশি এই নকল ওষুধগুলো রাজধানীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে সরবরাহ করতো। এতে সাধারণ ক্রেতারা আসল ও নকল ওষুধের পার্থক্য করতে পারতেন না।
র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন:
“আমরা দেখতে পেলাম, এখানে বেশ কিছু নকল ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে। ভারতীয় বেশ কিছু কোম্পানির ওষুধের নকল করা হয়েছে। এসব ওষুধের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের ওষুধ, শিশুদের ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ রয়েছে। আর এসব ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছিল রাজধানীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে। একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মূলত এগুলো জালিয়াতি করছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছি।”
আটক ও আইনি পদক্ষেপ
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে র্যাব। আটককৃতরা কারখানার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। তাদের একজন ক্যামেরায় বলেন:
“আমরা তো শুধু প্যাকিং করতাম। ওষুধের মধ্যে কী আছে, সেটা আমরা জানতাম না। বাবা বলে দিত, এগুলো প্যাক করে দাও। আমি তো কিছু জানি না।”
আটকদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ওষুধ আইন-এ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আরও কেউ এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে র্যাব।
জনস্বাস্থ্যে প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নকল ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা ও শিশুদের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ নকল হলে তা রোগীর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই জালিয়াতির মাধ্যমে কোন কোন ফার্মেসিতে এসব ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে র্যাব।







