Home আন্তর্জাতিক ইরানকে যুদ্ধে প্রকাশ্য সমর্থন চীনের! যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের হুঁশিয়ারি

ইরানকে যুদ্ধে প্রকাশ্য সমর্থন চীনের! যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবিলম্বে হামলা বন্ধের হুঁশিয়ারি

12
0
ইরানকে চীনের সমর্থন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বেইজিং-তেহরান ০২ মার্চ, ২০২৬ (সোমবার)

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে পরাশক্তি চীন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার লড়াইয়ে ইরানকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে বেইজিং। আজ সোমবার (২ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে এই অবস্থানের কথা জানান চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের পাশে চীন

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV) নিশ্চিত করেছে যে, ফোনালাপে ওয়াং ই ইরান ও চীনের দীর্ঘদিনের “ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে” অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় চীন পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় বেইজিংয়ের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

হামলার ভয়াবহতা ও তেহরানের পাল্টা আঘাত

গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে, যাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০০ মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে ইরানও বসে থাকেনি; ইসরাইল, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবং সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।

‘জঙ্গলের আইন’ ও বিশ্বশক্তির সমালোচনা

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন:

“বিশ্ব এখন ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কোনো প্রধান শক্তি কেবল তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের ওপর ভর করে অন্য দেশের ওপর ইচ্ছামতো হামলা চালাতে পারে না।”

একই দিনে ওমান ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেন ওয়াং ই। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিনি অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ উসকে দিয়ে জাতিসংঘ সনদের মূল নীতিমালা লঙ্ঘন করছে।

ভূ-রাজনীতিতে নতুন মোড়

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই প্রকাশ্য সমর্থন তেহরানকে অনেকটা স্বস্তি দেবে। বিশেষ করে যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা হামলার শিকার হয়েছেন, তখন চীনের মতো বিশ্বশক্তির এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।