আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ছাত্রসমাজকে সর্বোচ্চ সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি যেন নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে ছাত্রসমাজকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে পল্টনস্থ জমিয়তের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের ৩৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

ক্যাম্পাসে ধর্মীয় অধিকার ও সচেতনতা
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে ক্যাম্পাসগুলোতে ধর্মীয় চর্চায় বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামপন্থী ছাত্রদের অন্যায়ভাবে ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে দমন করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে সেই অন্ধকার অধ্যায় কেটে গেলেও অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তারা।
নির্বাচন ও নৈতিক রাজনীতির ডাক
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথিরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন:
- ভোটের অধিকার: তরুণ প্রজন্মকে সত্য-মিথ্যা যাচাই করে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রস্তুতি নিতে হবে।
- ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা: সাহাবায়ে কেরাম (রা.)–এর মর্যাদা নিয়ে কটূক্তিকারীদের অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
- সহিংসতা পরিহার: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের উসকানি বা বিভ্রান্তিতে পা না দিয়ে নৈতিকতা ও আদর্শের রাজনীতি চর্চার ওপর জোর দেওয়া হয়।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্র জমিয়তের সাবেক সভাপতি মাওলানা এখলাছুর রহমান রিয়াদ বলেন, “দেশ ও জাতির স্বার্থবিরোধী কোনো অপশক্তিকে আর সুযোগ দেওয়া হবে না। ধর্মকে যারা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে সতর্ক থাকতে হবে।”

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম মাসুমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুযাইফা ইবনে ওমর, মাওলানা চৌধুরী নাসির আহমদ এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা একটি শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে আলেম সমাজ ও ইসলামী ছাত্র সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।







