Home বাংলাদেশ হরমুজ প্রণালি বন্ধে জ্বালানি সংকট: যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

হরমুজ প্রণালি বন্ধে জ্বালানি সংকট: যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

18
0
জ্বালানি তেল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশের বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অবৈধ মজুতদারি রুখতে আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) এক জরুরি নির্দেশনায় যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

কোন যানবাহন কতটুকু তেল পাবে?

বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি যানবাহন দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল সংগ্রহ করতে পারবে না। নির্ধারিত সীমাগুলো হলো:

যানবাহনের ধরনতেলের ধরনদৈনিক সর্বোচ্চ সীমা
মোটরসাইকেলপেট্রোল/অকটেন২ লিটার
ব্যক্তিগত কারপেট্রোল/অকটেন১০ লিটার
এসইউভি (জিপ) ও মাইক্রোবাসপেট্রোল/অকটেন২০ – ২৫ লিটার
পিকআপ ও লোকাল বাসডিজেল৭০ – ৮০ লিটার
দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও ভ্যানডিজেল২০০ – ২২০ লিটার

কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারি রুখতে পদক্ষেপ

বিপিসি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যা বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কিছু অসাধু ডিলার ও ভোক্তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন। এই কৃত্রিম সংকট রুখতেই সরকার কঠোর অবস্থানে গিয়েছে।

জ্বালানি সংকট

নতুন নিয়ম ও রসিদ বাধ্যতামূলক

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে:

  • ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ (Receipt) দিতে হবে।
  • পরবর্তী সময়ে তেল কেনার সময় আগের ক্রয়ের রসিদ দেখাতে হবে।
  • ডিলাররা কোনো অবস্থাতেই বরাদ্দের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ বা বিক্রি করতে পারবেন না।

জনগণের প্রতি বিপিসির বার্তা

বিপিসি আশ্বস্ত করেছে যে, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং বিদেশ থেকে তেলের চালান দেশে আসছে। রেলে এবং ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের সব ডিপোতে তেল পাঠানো হচ্ছে। দ্রুতই দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত বা ‘বাফার স্টক’ গড়ে উঠবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। তাই জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।