Home আন্তর্জাতিক ফুজাইরায় ড্রোন ধ্বংসের পর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত

ফুজাইরায় ড্রোন ধ্বংসের পর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত

1
0
বাংলাদেশি নিহত
প্রতিকী ছবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শহরে আকাশপথে আসা একটি ড্রোন মাঝ আকাশে ধ্বংস করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ বা শ্র্যাপনেলের আঘাতে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে ফুজাইরার আল রিফা এলাকার একটি খামারে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার বিবরণ

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম (WAM) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিশ্চিত করেছে যে, ফুজাইরার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি সন্দেহভাজন ড্রোন সফলভাবে রুখে দিতে সক্ষম হয়।

তবে ড্রোনটি ধ্বংস হওয়ার পর সেটির জ্বলন্ত টুকরো বা ধ্বংসাবশেষ নিচের আল রিফা এলাকার একটি খামারে গিয়ে পড়ে। সেখানে কর্মরত ওই বাংলাদেশি নাগরিক ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

ফুজাইরা সরকার মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে আল রিফা এলাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

ক্রমবর্ধমান হতাহতের পরিসংখ্যান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আরব আমিরাতে এটি সাধারণ নাগরিকদের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধারাবাহিকতারই একটি অংশ। ডব্লিউএএম-এর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত আরব আমিরাতে:

  • সামরিক বাহিনী: ২ জন সদস্য নিহত।
  • মরক্কোর নাগরিক: ১ জন (সেনাবাহিনীর সাথে চুক্তিবদ্ধ) নিহত।
  • সাধারণ নাগরিক: এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ফিলিস্তিন ও ভারতের অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন।
  • আহত: গত এক মাসে কেবল আরব আমিরাতেই বিভিন্ন দেশের ১৮৮ জন নাগরিক আহত হয়েছেন।

আতঙ্ক ও নিরাপত্তা সতর্কতা

বর্তমানে ফুজাইরার আল রিফার মতো কৃষিকাজ প্রধান এলাকাগুলোতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ হামলা রুখে দিচ্ছে, কিন্তু ধ্বংসাবশেষ লোকালয়ে পড়ায় হতাহতের ঝুঁকি বাড়ছে। ফুজাইরা কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে কোনো সন্দেহভাজন বা অপরিচিত বস্তু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

বাংলাদেশি প্রবাসীর এই অকাল মৃত্যুতে প্রবাসী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।