ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প পথে সৌদি আরব থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
হরমুজ প্রণালিতে আটকা ‘এমটি নরডিক পলুকস’
বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ৬টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবে এই তেলের জাহাজটি সেই তালিকায় নেই।
লোহিত সাগর দিয়ে বিকল্প রুট
হরমুজ প্রণালির এই জটিলতা এড়াতে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন করে কেনা আরও ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল লোহিত সাগরের তীরবর্তী সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় তেল পরিবহনে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা নেই। আগামী ২০ এপ্রিল এই তেল লোড করার কথা রয়েছে।
মে মাসের শুরুতেই স্বস্তির খবর
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্রে জানা গেছে, এই ২ লাখ টন তেল পরিশোধন করে যা উৎপাদন সম্ভব:
- ডিজেল: ৫২ হাজার টন
- পেট্রোল: ৩২ হাজার টন
- অকটেন: ১৬ হাজার টন
- ফার্নেস অয়েল: ৪৮ হাজার টন
- কেরোসিন: ৪২ হাজার টন
বিএসসি-র বক্তব্য
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, “জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ জাহাজের জন্য বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি লোহিত সাগরের রুট ব্যবহার করে নতুন তেল আনার প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ক্রুড অয়েল, এলপিজি ও এলএনজিসহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অন্তত ৩৩টি জাহাজ ভিড়েছে। নতুন এই ২ লাখ টন তেল আসলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।







