স্কুলশিক্ষিকা জাহানারা বেগম। কয়েকদিন আগে সন্তান সম্ভবা ছেলের বউকে নিয়ে উত্তরার একটি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। বাসা থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় উঠেন। বাউনিয়া আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশাটি উল্টে যায়। এতে পুত্রবধূ তানিয়ার এক পা ভেঙে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত পান। মুহূর্তেই জ্ঞান হারান তানিয়া। পরে স্থানীয় লোকজন কর্দমাক্ত হাঁটুপানি থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এমনই ঘটনা প্রতিদিনিই ঘটছে যে এলাকার রাস্তায় সে এলাকার নাম বাউনিয়া। বাউনিয়ার রাস্তা বাউনিয়াবাসীর গলার কাঁটা হয়ে আছে।
রাজধানীর বিমানবন্দর লাগোয়া পশ্চিম অংশে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫২ নং ওয়ার্ড। করপোরেশনের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্যতম এটি। নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডটি। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে হরিরামপুর ইউনিয়নের কাঠামো ভেঙে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নতুন ওয়ার্ড গঠন করা হয়। বাউনিয়া, বাদালদি, উলুদাহা, চান্দুরা, মান্দুরা, শোলাটি, দলিপাড়া, আহালিয়া, পাকুরিয়া ও বাইলজুরি নিয়ে এই ওয়ার্ড গঠন হলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এখানকার মানুষ।
বাউনিয়ার রাস্তার দূর্ভোগের ভিডিও দেখুন–
বিগত কয়েক বছরেও এই ওয়ার্ডে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। বরঞ্চ বেড়েছে দুর্ভোগ। প্রতিটি ক্ষেত্রে ভোগান্তির শিকার হয়ে দিশাহারা ডিএনসিসি’র এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। সিটি করপোরেশনের নতুন ওয়ার্ড গঠনের আগের নির্মাণ করা রাস্তাই এখনো ব্যবহার হচ্ছে। তবে পুরো এলাকার রাস্তাই এখন ভাঙাচোরা। খানাখন্দে ভরা।
সরেজমিনে ইনিউজআপ এর প্রতিবেদক সেই রাস্তা পরিদর্শন কালে স্থানীয় বাসিন্দারা নান দূর্ভোগ ও ক্ষোভের কথা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা- মোঃ রেজাউল করিম বলেনঃ
চীনের হুয়াং নদীর মতো বাউনিয়ার দুঃখ এই রাস্তা। কেন এই রাস্তা হচ্ছে না সেটাই আমাদের দূর্ভাগ্য। জনপ্রতিনিধিরা আড়াই কিলোমিটার একটি রাস্তা এখনো কেন হচ্ছে না এটার উত্তরা জানানেই। এখানে ১৪হাজার ভোটার, কিন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার প্রতিকারের ব্যাবস্থা আমরা বাউনিয়াবাসী চাই।
বাউনিয়ার রাস্তাটির খানাখন্দে ভরা এবং সরু। আর সবচেয়ে সমস্যা এই রাস্তার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যাবস্থা। অত্যন্ত দুঃখ ভরাক্রান্ত্রে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন- নৌকার অর্ডার দিয়েছি, এটা খাল হলে চলতে হবে তো। তিনি বলেন রাস্তার আগে জরুরী ড্রেনেজ ব্যাবস্থা, ড্রেনের নোংরা পানির জন্য নামাজ পড়তে যেতে সমস্যা হয়। জনপ্রতিনিধি আসে যায় কিন্তু আমাদের এই রাস্তার আর কোন সমাধান হয় না।

সরেজমিনে দেখা যায় এই রাস্তা দিয়ে কোন গর্ভবতী মহিলা বা সিরিয়াস কোন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাবে। রাস্তার পাশ দিয়ে হাটার কোন জায়গা নেই, ময়লা দূর্গন্ধ পানি জমে আছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করেননি জনপ্রতিনিধিরা। পুরো ওয়ার্ডের রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি আসলে অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে যায়। পানিবন্দি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করেন এখানকার অনেক বাসিন্দা। সড়কের উপরে পড়ে থাকে ময়লা আবর্জনা।
চলাচলের জন্য নেই কোনো ফুটপাথ। নেই ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ এখানকার মানুষ। ছিটানো হচ্ছে না পর্যাপ্ত মশার ওষুধ। সড়কে ল্যাপপোস্ট থাকলেও নেই বাতির ব্যবস্থা। সন্ধ্যা হলেই নেমে আসে অন্ধকার। এতে ভাঙাচোরা রাস্তায় দুর্ঘটনাসহ চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। এলাকাটি অনুন্নত হলেও কর্তৃপক্ষ নজর দিচ্ছে না। এটি সিটি করপোরেশন না হয়ে গ্রাম হলেও কিছুটা উন্নয়ন হতো।
একইচিত্র বাদালদি, উলুদাহা, চান্দুরা, মান্দুরা, শোলাটি, দলিপাড়া, আহালিয়া, পাকুরিয়া ও বাইলজুরি এলাকায়। কোথাও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। সড়কবাতি না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পুরো ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। অনেকে অভিযোগ করেছেন, সিটি করপোরেশনের কোনো সুযোগ-সুবিধাই পাচ্ছেন না তারা। ময়লা আবর্জনার গন্ধে এলাকায় বসবাস করতে চাচ্ছে না অনেকে। এ ছাড়া রাস্তাঘাট সরু হওয়ায় এই এলাকায় চলাচলের একমাত্র মাধ্যম রিকশা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থাকলেও সরু রাস্তার কারণে মহল্লায় যানজট সৃষ্টি হয়। একই দশা বিভিন্ন শাখা সড়কেও। এতে নানা দুর্ভোগে পড়ছেন এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে ৫২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদকে তার কার্যালয়ে এবং কয়েকদফা ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে তার বক্তব্য আমরা নিতে পারিনি।
–নিজস্ব প্রতিবেদক
তথ্যসূত্রঃ মানবজমিন








