ঘুমধুম সীমান্তে মাইন

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বা স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৪ মে ২০২৬) দুপুরে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু বাইশফাঁড়ি সীমান্তের জিরো পয়েন্টের ৪২ নম্বর পিলার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিক্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩৪) এবং শৈফুচিং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২)। তারা সবাই ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বালুক্যা পাড়ার বাসিন্দা।

যেভাবে ঘটলো এই নির্মম দুর্ঘটনা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তুমব্রু নো-ম্যান্সল্যান্ডের ৪২ নম্বর পিলার সংলগ্ন একটি কলাবাগানে কাজ করতে যান ওই তিন ব্যক্তি। কাজ করার একপর্যায়ে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় পূর্বে পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইন হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা নিহত হন।

এর কিছুক্ষণ পর সহকর্মীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে অন্য দুজন তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে আরেকটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। দ্বিতীয় দফার এই বিস্ফোরণে বাকি দুজনও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি

ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “মাইন বিস্ফোরণে তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকায় ল্যান্ডমাইন বা স্থলমাইন পুঁতে রাখার কারণে প্রায়শই অসাবধানতাবশত সাধারণ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকরা হতাহত হচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের চরম লঙ্ঘন।